বরিশাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১০ তলা ভবন থেকে নিচে পড়ে গিয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম নাজমুল হক (৩০), তিনি বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বরিশাল নগরের কাশীপুর হাইস্কুল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা এবং এনামুল হকের পুত্র।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার আদালতের কার্যক্রম চলাকালীন বিকেল পৌনে চারটার দিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ওপর থেকে হঠাৎ এক যুবক নিচে পড়ে যান। প্রচণ্ড শব্দ শুনে তাৎক্ষণিকভাবে আদালতে উপস্থিত বিচারপ্রার্থী এবং অন্যান্য লোকজন দ্রুত সেখানে ছুটে আসেন এবং তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন।
খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ নাজমুলকে উদ্ধার করে দ্রুত বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ ওই হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নাজমুল ঠিক কীভাবে ভবন থেকে নিচে পড়ে গেলেন, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নাজমুল নিজে থেকে লাফ দিয়েছেন নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া তিনি কেন আদালত ভবনে গিয়েছিলেন, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ পুরো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
বরিশাল আদালত পুলিশের পরিদর্শক তারেক বিশ্বাস জানান, আদালত ভবনের নিচে একজন পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে নাজমুল হককে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ভবনের সাততলা থেকে লাফ দিয়ে থাকতে পারেন। তিনি আরও জানান, ভবনটির নির্মাণশৈলীর কারণে অসাবধানতাবশত কারও নিচে পড়ে যাওয়ার সুযোগ খুব কম। সাধারণত ভবন থেকে পড়ে গেলে কার্নিশে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার কথা। এছাড়া তাকে কেউ ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছেন, এমন সম্ভাবনাও প্রাথমিকভাবে কম বলে মনে হচ্ছে।
নাজমুল হকের পরিবারের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তার সহকর্মী হাফিজা আক্তারের সঙ্গে কথা বলা গেছে। তিনি জানান, নাজমুল অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন।
হাফিজা আক্তার আরও জানান, আজ সকালে নাজমুল অফিসে এসেছিলেন। বেলা দুইটার দিকে তিনি জানান যে বাইরে কিছু কাজ আছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ফিরে আসবেন। এরপর তিনি আর অফিসে ফেরেননি। বিকেলে খবর পান যে তিনি আদালত ভবনের ওপর থেকে পড়ে মারা গেছেন।
নাজমুলের ব্যক্তিগত জীবন ও আইনি জটিলতা প্রসঙ্গে হাফিজা আক্তার বলেন, “নাজমুল হকের বরিশাল আদালতে কোনো মামলা ছিল বলে আমাদের জানা নেই। তবে কয়েক মাস আগে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পর ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি মামলা রয়েছে বলে আমরা জানি। এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না।”