জুনিয়র এশিয়া কাপ শেষ করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী হকি দল জয়ের মাদক নিয়ে। শনিবার চীনের মোকিতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ২-১ গোলে পরাজিত করে টুর্নামেন্টে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে লাল-সবুজের মেয়েরা। এই জয়ের মাধ্যমে ২০২৭ সালের জুনিয়র বিশ্বকাপে খেলার ক্ষীণ আশাও তারা বাঁচিয়ে রেখেছে।

প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে উত্তেজনাপূর্ণ খেলা উপহার দেয় দুই দল। ৩১ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে লক্ষ্যভেদ করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক সারিকা রিমন। এরপর শেষ কোয়ার্টারের পঞ্চম মিনিটে কোনা আক্তার ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ৫০ মিনিটে ফিল্ড গোল করে তিনি নিজেই দলের লিড বাড়িয়ে দেন, যা ২-০ হয়ে দাঁড়ায়। ম্যাচের শেষ দিকে মালয়েশিয়া ফিরতে চেষ্টা করলেও ৫৯ মিনিটে ইরদিনা জেফ্রির একটি গোল ছাড়া আর কোনো সুযোগ পায়নি তারা।

এই জয়ের মাধ্যমে ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে জয় পেয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে চাইনিজ তাইপেকে ৭-০, পাকিস্তানকে ৫-১, কাজাখস্তানকে ৪-০ এবং হংকংকে ৬-০ গোলে হারিয়ে অপরাজিত অবস্থায় কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে তারা। তবে সেখানে শক্তিশালী জাপানের কাছে ২-০ গোলে হেরে সরাসরি বিশ্বকাপে যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যায়।

তবে বিশ্বকাপের দরজা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ফিআইএইচ-এর ২০২৭ নারী জুনিয়র বিশ্বকাপ বাছাইয়ের নিয়ম অনুযায়ী এশিয়া কাপের শীর্ষ তিন দল সরাসরি জায়গা পাবে। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে এশিয়ার জন্য আরও একটি কোটা রয়েছে, অর্থাৎ বর্তমান অবস্থায় শীর্ষ চার দল বিশ্বকাপের টিকিট পাবে।

সমীকরণটি বদলে যেতে পারে যদি ২০২৭ বিশ্বকাপের আয়োজকের দায়িত্ব ভারত পায়। সেক্ষেত্রে আয়োজক হিসেবে ভারত সরাসরি জায়গা পাবে এবং এশিয়ার অন্য চারটি কোটা আলাদা থাকবে। এমন পরিস্থিতিতে এশিয়া কাপের পঞ্চম দল হিসেবে বাংলাদেশের সামনে প্রথমবারের মতো নারী জুনিয়র বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ছয় ম্যাচে ২৬ গোল করে মাত্র পাঁচটি হজম করেছে। একমাত্র হারটি এসেছে জাপানের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে। মালয়েশিয়াকে হারিয়ে পঞ্চম হওয়াটা বাংলাদেশের জন্য কেবল সান্ত্বনার জয় নয়, বরং আয়োজক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বকাপের আশা বাঁচিয়ে রাখার একটি ধাপ।