কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় প্রায় ১০ একর জমিতে নির্মিত হর্টিকালচার সেন্টারটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। জনবল সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে, ফলে স্থানীয় কৃষকরা এর কোনো সুফল পাচ্ছেন না।
উন্নত জাতের বীজ, চারা ও কলম উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকদের কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে এই সেন্টারটি গড়ে তোলা হয়। তবে সরকারি খাতে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই অবকাঠামোটি বর্তমানে মূলত ধান শুকানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে সারা দেশে ৭৩টি হর্টিকালচার সেন্টার নির্মাণের প্রেক্ষিতে নাজিরপুরেও এটি তৈরি করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সেন্টারটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে গত বছরের জুনে শেষ হয়। এরপর প্রকল্পটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে জমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণে মোট কত টাকা ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রকল্পের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, "হর্টিকালচার সেন্টার করার জন্য আমাদের কাছ থেকে জমি নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ তখন বলেছিল, এখানে স্থানীয়দের চাকরির সুযোগ হবে। কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। একজন লোক এখানে দেখাশোনা করেন, তাকেও ঠিকমতো বেতন দেওয়া হয় না। আমরা চাই, হর্টিকালচার সেন্টারটি দ্রুত চালু করা হোক।"
আরেক কৃষক রুহুল আমিন বলেন, "ভবন নির্মাণ করে ফেলে রাখায় সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে। এখানে কোনো কার্যক্রম না থাকায় প্রান্তিক কৃষকরা কোনো সুফল পাচ্ছেন না। সরকারের যে উদ্দেশ্যে এটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেটিও বাস্তবায়িত হচ্ছে না। বর্তমানে জায়গাটি অনেকটা ভুতুড়ে অবস্থায় পড়ে আছে। এটি দ্রুত চালু করা প্রয়োজন।"
স্থানীয় নারী কৃষক রহিমা বেগম বলেন, "প্রতিষ্ঠানটি হওয়ার আগে আমরা এখানে কৃষিকাজ করতাম। ভেবেছিলাম হর্টিকালচার সেন্টার হলে এখানেও কাজ করার সুযোগ পাব। কিন্তু প্রায় তিন বছর ধরে এখানে তেমন কোনো কাজই হচ্ছে না।"
পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "উন্নত মানের চারা ও কলম উৎপাদন করে কৃষকদের মধ্যে বিতরণের জন্যই হর্টিকালচার সেন্টারটি নির্মাণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় বর্তমানে কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।"
তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত করা হলে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। তখন এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে উন্নত মানের বীজ, চারা ও কলম বিতরণ করা যাবে।
স্থানীয় কৃষকরা সরকারের বিপুল অর্থে নির্মিত হর্টিকালচার সেন্টারটি দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন। তারা চান, এটি আর তালাবদ্ধ না রেখে কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ, চারা ও কলম সরবরাহের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা হোক।