রাজশাহীর পুঠিয়া ও দুর্গাপুর উপজেলায় অবৈধভাবে সার মজুতের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীর বাড়ি ও গুদাম থেকে মোট ১০০০ বস্তা সার জব্দ করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে ৬৭০ বস্তা সার আজ শুক্রবার বিকেলে সরকারি মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। বাকি সার আগামী রোববার বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার পুঠিয়া উপজেলার কার্তিকপাড়া বাজার এবং দুর্গাপুর উপজেলার আড়ইল গ্রামে পৃথক অভিযান চালিয়ে এই সারগুলো উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় থেকে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম আত্মগোপনে আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা জানান, সাইদুল ইসলাম মূলত একজন কীটনাশক ব্যবসায়ী। তাঁর সার বিক্রির লাইসেন্স নেই। জব্দ করা সার রাতেই দুর্গাপুর থানায় এনে রাখা হয়েছিল। আজ বিকেলে উপজেলার কিসমতগণকৈড় এলাকার কৃষকদের মধ্যে সরকারি মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে।

ইউএনও বলেন, "অভিযানের সময় সাইদুল পলাতক থাকায় তাঁকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছুটিতে আছেন। তিনি যোগদান করলে নিয়মিত মামলা করা হবে।"

দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন সাইদুলের বাড়ি থেকে ২৪৬ বস্তা ইউরিয়া, ১০০ বস্তা টিএসপি ও ৩২৪ বস্তা ডিএপি সারসহ মোট ৬৭০ বস্তা সার জব্দ করে।

অন্যদিকে, পুঠিয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে পুঠিয়ার ইউএনও লিয়াকত সালমান ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকারের নেতৃত্বে কার্তিকপাড়া বাজারে যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সাইদুলের দোকান ও গুদামে তল্লাশি চালিয়ে ২৭৬ বস্তা ডিএপি, ৪৮ বস্তা টিএসপি ও ৬ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়। এ ছাড়া আরও তিনটি খোলা বস্তা পাওয়া যায়।

জব্দ করা সার বর্তমানে পুঠিয়া উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে আছে। অবৈধ সার মজুতের অভিযোগে সাইদুলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস জানান, জব্দ করা সার আগামী রোববার কৃষকদের মধ্যে সরকারি মূল্যে বিক্রি করা হবে।