ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা সতর্ক করে দিয়েছেন, সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন-২০২৬ বাতিল না করা হলে সারা দেশে গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দেশের সকল বিভাগীয় শহরে দলটির কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।

নেতারা জানান, ইসলামের উত্তরাধিকার আইনে হেবা সংক্রান্ত বিধানে সরকার যে সংশোধনী এনেছে তা ইসলামের বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। তারা বলেন, "সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, এই আইনের উদ্দেশ্য ও পরিণতি ইসলামের অকাট্য উত্তারাধিকার আইনকে বাইপাস করা, উপেক্ষা করা। একজন মুসলমান প্রাত্যহিক জীবনে নানা অপারগতায় শরিয়ার কোনো কোনো বিধান মান্য না-ও করতে পারেন; সেটা মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমাযোগ্য অপরাধ।"

তাদের মতে, শরিয়ার কোনো বিধানকে উপেক্ষা বা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য আইন করা মহান আল্লাহর সঙ্গে ধৃষ্টতা দেখানোর শামিল। ৯১ শতাংশ মুসলমান জনগোষ্ঠীর দেশে মহান আল্লাহর সঙ্গে এমন ধৃষ্টতা দেখানোর সুযোগ কোনো সরকারকে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন ইসলামী আন্দোলনের নেতারা।

বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে নেতারা জোর দাবি জানিয়ে বলেন, "সরকারকে অবশ্যই এই আইন থেকে সরে আসতে হবে। কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন বাংলাদেশ বাস্তবায়িত হতে দেওয়া হবে না।"

প্রবীন নাগরিকদের স্বার্থ এবং পিতা-মাতার স্বার্থ রক্ষায় সমাজে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, শিশুদের মনে পিতা-মাতার সম্মান সম্পর্কে ইসলামের বয়ান গ্রোথিত করে দিতে হবে। পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্যে অবহেলাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে সরকারকে স্বপ্রণোদিত হয়ে আইনের প্রয়োগ করতে হবে।

বিভাগীয় শহরগুলোতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে নেতারা সরকারের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। তারা বলেন, "সরকারের ছয় মাস অতিক্রান্ত হচ্ছে। এই ছয় মাসে রাষ্ট্র পরিচালনায় কোন ধরনের সফলতা দেখাতে পারেনি। দক্ষতা দেখাতে পারছে না। ফলে জ্বালানি সংকট, বিদ্যুত সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতি, সন্ত্রাসে বিপর্যস্ত হচ্ছে। এই অবস্থার পরিবর্তন করতেই হবে।"