অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় আমার কোনো আদেশে একজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার জন্যই আমি কথা বলছি। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করার দায়িত্ব পুলিশের, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) একটি টকশোতে সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এসব কথা বলেন। তিনি সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্নকারীদের উত্তর দিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানান।

আসিফ নজরুল বলেন, "সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার কি আইন মন্ত্রণালয় করে?" কাউকে গ্রেপ্তার করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই গ্রেপ্তার করা বা না করার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সরাসরি কোনো ক্ষমতা নেই।

তিনি আরও বলেন, যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের ব্যাপারে আমি নেপথ্যে কী ভূমিকা রেখেছি এবং যারা ৪-৫ মাস ধরে গ্রেপ্তার হননি, তাদের পেছনেই-বা আমার কী ভূমিকা ছিল, তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই ভালো জানেন। আমি তখন সরকারের ভেতরে শপথমুখী একজন সদস্য ছিলাম; তাই সে সময় সব কথা চাইলে বলতে পারিনি।

উপস্থাপকের উদ্দেশ্যে সাবেক এই আইন উপদেষ্টা বলেন, আপনার কি মনে হয় আমি আইনের শাসন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় আমার ভূমিকা রাখতে পারিনি? আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। কারণ, একটি সরকারের ভেতরে থেকে একজন মানুষ চাইলেই একা সবকিছু করতে পারে না।

সরকারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের সরকারের ভেতরে কট্টরপন্থী একটি গোষ্ঠী বা অংশ ছিল। আবার সরকারের বাইরেও বিভিন্ন প্রভাবশালী শক্তি ছিল, যাদের কট্টরপন্থীদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ ছিল। ওই কট্টরপন্থীদের দাবি ছিল, অন্তর্বর্তী সরকার যেন আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।