এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এই তালিকায় নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিন হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী। এছাড়াও ফেল করা অবস্থায় পাস করেছেন চার হাজার ৮৫ জন। বৃহস্পতিবার এই ফল প্রকাশ করা হয়।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের জ্যেষ্ঠ সিস্টেম অ্যানালিস্ট মনজুরুল কবীর জানান, এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। তাদের মধ্যে আবেদনকারী ছিলেন চার লাখ দুই হাজার ৫২ জন। স্কিপট ছিল ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৮টি। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের। আর নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর পুনর্নিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফলাফল শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। পুনর্নিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল তিন পদ্ধতিতে জানা যাচ্ছে।
প্রথমত, নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীর দেওয়া মুঠোফোন নম্বরে এসএমএস পাঠানো হয়েছে।
তৃতীয়ত https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd থেকেও ফল সংগ্রহ করা যাচ্ছে।
এ বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ৪ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী প্রায় ১৩ লাখ আবেদন করেছে। এর মধ্যে ১০ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি আবেদন পড়েছে লিখিত (তত্ত্বীয়) পরীক্ষার উত্তরপত্রের জন্য। আর ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতার জন্য আবেদন পড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজারের বেশি।
এবার ফল পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন বা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়েছে। এত দিন বোর্ডের নিয়মে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ ছিল না। আবেদন করা পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ করে মূলত প্রাপ্ত নম্বরের যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা দেখা হতো।
এবার বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন ও পুনর্নিরীক্ষণ করতে গিয়ে চাপের মুখে পড়ছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। জানতে চাইলে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক পরীক্ষক নিয়োগ দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া বিকল্প নেই।"
ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়। শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি আবেদন করেছিল। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার জন্য ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি আবেদন জমা পড়েছিল।