ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) অভিষেক ম্যাচেই বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে খেলতে নেমে মাত্র ১৩ রানে তিন উইকেট শিকার করে জয়ের ভিত স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এরপর সেন্ট লুসিয়া কিংসের ব্যাটিং লাইনআপ ধ্বংসাত্মকভাবে ভাঙতে সাহায্য করেন ইমরান তাহির, যিনি পাঁচ উইকেট নেন।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে সেন্ট লুসিয়া কিংস। তবে গায়ানার স্পিনারদের ঘূর্ণিতে তারা ১৮.৫ ওভারে মাত্র ১১৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। জবাবে ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়েছিল গায়ানা। এক পর্যায়ে ৬৯ রানে চার উইকেট হারিয়ে সংগ্রামে পড়লেও শেষ পর্যন্ত কুইন্টিন স্যাম্পসনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২২ রান তুলে চার উইকেটে জয় লাভ করে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স।
মিরাজের বোলিং আক্রমণ ছিল অত্যন্ত কার্যকর। সপ্তম ওভারের শেষ বলে জন ক্যাম্পবেলকে ফিরিয়ে সিপিএলে তার প্রথম উইকেটটি পান। এরপর একাদশ ওভারের প্রথম বলে কেমল স্যাভরিকে এলবিডব্লিউ করেন এবং একই ওভারের শেষ বলে চারিথ আসালাঙ্কাকে আউট করেন। মোট চার ওভার বোলিং করে মাত্র ১৩ রান দিয়ে তিনি তিন উইকেট শিকার করেন।
অন্য প্রান্তে আরও ভয়ংকর ছিলেন গায়ানার অধিনায়ক ইমরান তাহির। তিনি চার ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন। দুই স্পিনার মিলে আট ওভারে মাত্র ৩০ রান দিয়ে আট উইকেট শিকার করে সেন্ট লুসিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ ধ্বংস করে দেন। তাদের ঘূর্ণিতে ৮১ রানেই নয় উইকেট হারায় সেন্ট লুসিয়া। শেষ উইকেটে ওবুস পিয়েনার ও মহীশ থিকশানার ৩৮ রানের জুটি দলকে শতক পার করালেও কামিল পুরান সর্বোচ্চ ৪৩ এবং পিয়েনার ৩৫ রান করে দলকে রক্ষা করতে পারেননি।
জবাবি ইনিংসে গায়ানা শুরুটা ভালো না করলেও ক্রিসে পৌঁছানোর পর অবস্থা উল্টে যায়। গ্লেন ফিলিপস ৩৭ এবং শাই হোপ ২১ রান করেন। কিন্তু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসেন কুইন্টিন স্যাম্পসন। মাত্র ১১ বলে পাঁচ ছক্কা ও এক চার সহ অপরাজিত ৩৭ রান করে তিনি ম্যাচটি গায়ানার জন্য নিশ্চিত করেন। তাঁর ব্যাটেই শেষ হয় সেন্ট লুসিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর সব আশা।