নারায়ণগঞ্জে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত শুভ ওরফে বিল্লালের শেষকৃত্য নিয়ে ধর্মীয় দ্বন্দ্বের কারণে পাঁচ দিন পার হওয়ার পরও মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের হিমাগারেই আটকে আছে। মা চান দাফন, আর বাবা চান দাহ—এই অনড় অবস্থানের কারণে বিষয়টি এখন আদালতে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের পেছনে দুর্গা মন্দিরের সামনে শুভকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত মরদেহের পাশাপাশি পাঁচটি গুলির খোসা এবং ১০০টি ইয়াবা উদ্ধার করে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সুমন ওরফে ‘মাইগ্যা সুমন’, সিয়াম আহমেদ সিজান ও সোহান নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। রিমান্ডে থাকা সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার নবাব সলিমুল্লাহ রোড এলাকার রামকৃষ্ণ মিশনের কাছে ঝোপঝাড় থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ।

পুলিশের দাবি, মাত্র ১০টি ইয়াবার বিনিময়ে শুভকে তার এক সহযোগীর মাধ্যমে ফুসলিয়ে ঘটনাস্থলে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর ১০-১২ জনের একটি দল তাকে ঘেরাও করে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মফিজুর জানান, শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাস ও মা আয়েশা বেগমের ২০০৩ সালে বিবাহবিচ্ছেদ (তালাক) হয়। এরপর শুভ, তার মা আয়েশা, ভাই ইবরাহিম ও বোন সুমাইয়া ইসলাম গ্রহণ করেন। হলফনামার মাধ্যমে শুভ মুসলিম হয়ে ‘বিল্লাল’ নাম ধারণ করেন এবং মুসলিম রীতি অনুযায়ী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। শুভর ভাই ইবরাহিমের দাবি, তারা দুই ভাই নারায়ণগঞ্জের রওজাতুস সালেহীন মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন এবং ইসলামী শরীয়ত অনুসারেই বেড়ে উঠেছেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজিদুর রহমান জানান, নিহত শুভ হিন্দু না মুসলিম—তা নিয়ে পরিবারের মধ্যে আইনি দ্বন্দ্ব দেখা দেওয়ায় মরদেহ আপাতত দাফন বা দাহ করা সম্ভব হয়নি। আইনি জটিলতার কারণে মরদেহটি ঢামেক হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত আসার পরই পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।