ছবি সংযুক্ত না করে কেবল বায়োমেট্রিক তথ্যের ভিত্তিতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ইস্যু করার নির্দেশনা চেয়ে করা একটি রিট খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত আদালত আজ বুধবার এই রায় দেন।

রাজধানীর শাহজাহানপুরের বাসিন্দা সুমাইয়া আহমদ মুনা ২০২২ সালে উক্ত রিটটি করেন। তিনি নিজেকে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী পর্দানশিন মুসলিম নারী হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ছবি তোলা থেকে বিরত থাকার কারণে তাঁর এনআইডি নেই বলে জানান। এনআইডি না থাকায় তিনি সরকারি ও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই, বিকল্প পরিচয় শনাক্তকরণ পদ্ধতি হিসেবে আঙুলের ছাপ, আইরিস, ডিএনএ বা স্বাক্ষরের মতো বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহার করে ছবি ছাড়া এনআইডি প্রদানে পদক্ষেপ নিতে আদালতের কাছে নির্দেশনা চাওয়া হয়।

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত বছরের ৬ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করেছিল। রুলে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, কেন ছবি সংযুক্ত না করে বায়োমেট্রিক ফিচারের মাধ্যমে আবেদনকারীর এনআইডি তৈরি করতে নির্দেশ দেওয়া হবে না। চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ আদালত রুল খারিজ করে দেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শেখ ওমর শরীফ ও ইলিয়াছ আলী মন্ডল এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষে কামাল হোসেন মিয়াজী শুনানি করেন।

শুনানি শেষে আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী বলেন, "জাতীয় পরিচয়পত্র ছবিসহ হয়। এর ভিত্তি হলো জাতীয় পরিচয়পত্র আইন, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন বিধিমালা ও ভোটার তালিকা আইন। তিনটি আইন একসঙ্গে পড়লে ছবিসহ জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যু করতে হবে। আদালত রুল খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে পর্দানশিন নারী উল্লেখ করে ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে আইনত সুযোগ থাকল না।"

অপরদিকে, রিট আবেদনকারীর আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ বলেন, "আবেদনকারী প্রাপ্তবয়স্ক ও পর্দানশিন মুসলিম নারী। ইসলামি শরিয়তের বিধিবিধান নিয়মিতভাবে পালন করেন। এ কারণে তিনি কোনো ধরনের ছবি তোলা থেকে বিরত থাকেন। ফলে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তিনি বিভিন্ন সরকারি ও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যে কারণে রিটটি করা হয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।"