দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরুর পর ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া’র বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই বিষয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার দায়ের করা রিটের ওপর আদেশের জন্য আগামী বুধবার দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. বশির উল্লাহ ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার শুনানি শেষে এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া আবেদনকারী হয়ে গত সেপ্টেম্বরে এই রিট আবেদনটি দাখিল করেন। উল্লেখ্য, হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ গত ২৯ সেপ্টেম্বর রিটটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে চলতি সপ্তাহে রিটটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের নিয়মিত বেঞ্চে পুনরায় দাখিল করা হয়।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন, আইনজীবী ইউসুফ আলী এবং জহিরুল ইসলাম। অন্যদিকে, দুদকের পক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান। শুনানির পর আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “হাইকোর্ট রিটের শুনানি শেষে আদেশের জন্য আগামী বুধবার (১১ নভেম্বর) তারিখ ধার্য করেছেন।”
রিট আবেদনকারীর আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এবং সহকারী পরিচালক গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুটি পৃথক প্রেস ব্রিফিং আয়োজন করেন। ওই ব্রিফিংগুলোতে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্তের পর ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ বলে জানানো হয়। আবেদনকারীর দাবি, এই ধরনের ব্রিফিং সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা নাগরিকের মর্যাদা ও সুনামের সুরক্ষার পরিপন্থী এবং দুদকের নিজস্ব তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের ওই প্রেস ব্রিফিংয়ের আইনি কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জ করেই আসিফ মাহমুদ এই রিটটি দায়ের করেছেন।
রিটের প্রার্থনায় জানতে চাওয়া হয়েছে, ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালকের করা প্রেস ব্রিফিং সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ ও ২০১১ সালের তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালার লঙ্ঘন হওয়ায় কেন একে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। এছাড়া, কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় সে বিষয়ে কোনো ধরনের প্রেস ব্রিফিং করা থেকে দুদককে বিরত রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, রিটে অন্তর্বর্তী নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে যেন ভবিষ্যতে চলমান কোনো অনুসন্ধান বা তদন্তের বিষয়ে দুদক কোনো ধরনের প্রেস ব্রিফিং না করে। এছাড়া ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদকে নিয়ে দুদকের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে একই গুরুত্ব দিয়ে তা প্রকাশের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে রিটে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নিযুক্ত হন। তিনি শুরুতে শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তিনি স্থানীয় সরকার ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। একই বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন এবং তখন থেকেই তিনি এনসিপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।