এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে নতুন করে খাতা যাচাইয়ের ঘটনায় তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের উত্তরপত্র পুনরায় যাচাই করার জন্য বোর্ডে ২৭ জন শিক্ষককে ডেকে আনা হয়। এই প্রক্রিয়ায় কিছু শিক্ষার্থীর ফলাফলে পরিবর্তন আসার অভিযোগ রয়েছে।
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এসএসসি ফল প্রকাশের পর অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা নিয়ম অনুযায়ী উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। বোর্ড নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সেই কাজ সম্পন্ন করে। এরপর ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় বোর্ড কর্তৃপক্ষ বিষয় দুটি নিয়ে নতুন করে যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার বিকেলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৭ জন শিক্ষককে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
শিক্ষকদের দ্বারা সন্ধ্যার পর থেকেই উত্তরপত্র যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়। রাত পর্যন্ত তাদের বোর্ড ভবনে অবস্থান করতে দেখা যায়। তবে রাত ১২টার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে শিক্ষকরা পর্যায়ক্রমে বোর্ড ছাড়তে বাধ্য হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুনরায় খাতা যাচাইয়ের কাজে নিয়োজিত এক শিক্ষক বলেন, "বোর্ড কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তাদের ডাকা হয়েছে। তাদের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেটিই তাঁরা পালন করেছেন।"
রাতের বেলায় ২৭ জন শিক্ষককে দিয়ে উত্তরপত্র পুনরায় যাচাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী। তিনি বলেন, "পুনঃনিরীক্ষণের পর ইংরেজি ও গণিতে বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থী ফেল করেছে। বিষয়টি আবার যাচাই করা হচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্যই রাতে শিক্ষকদের আনা হয়েছে।"
তবে পুনঃনিরীক্ষণের কাজ শেষ হওয়ার পর একই উত্তরপত্র আবার যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো, এ প্রক্রিয়ার আওতায় মোট কতটি খাতা দেখা হচ্ছে এবং যাচাইয়ের পর কতজন শিক্ষার্থীর ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।