দিনাজপুরের বিরামপুরে বিয়ের দাওয়াতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক গৃহবধূ ও তাঁর ১১ মাস বয়সী শিশু মেয়ে নিহত হয়েছেন। এছাড়া একই দুর্ঘটনায় স্বামী ও অন্য সন্তান আহত হয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে বিরামপুর পৌর শহরের জনতা ব্যাংকের সামনে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন রুমি আক্তার (২৮) এবং তাঁর কন্যা মারিয়া মাহরিন। রুমির স্বামী মাহমুদুল হাসান মালয়েশিয়া প্রবাসী। তিনি গত আগস্টে এক মাসের ছুটিতে দেশে এসেছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাহমুদুল হাসান নিজ বাড়ি নবাবগঞ্জ উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রাম থেকে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে হাকিমপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় বিয়ের দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। জনতা ব্যাংকের সামনে সড়ক সংস্কারকাজ চলার কারণে যানজট ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী ট্রাক পাশ কাটানোর সময় পেছন থেকে একটি পিকআপ ভ্যান মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়।

ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় রুমি আক্তার কোলে থাকা শিশু মারিয়াকে নিয়ে সড়কের ডান পাশে পড়ে যান। অন্যদিকে, সাত বছর বয়সী ছেলে আবদুর রহমানকে নিয়ে মাহমুদুল হাসান বাঁ পাশে পড়ে যান। পরপর আসা একটি মালবোঝাই ট্রাক রুমি আক্তারের শরীরের ওপর দিয়ে চলে যায়, যাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। শিশু মারিয়ার একটি পা ভেঙে যায়।

স্থানীয় লোকজন আহত মাহমুদুল হাসান ও তাঁর দুই সন্তানকে উদ্ধার করে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে শিশু মারিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে মারিয়ার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ট্রাকচালক সাব্বির আহমেদ ও তাঁর সহকারী রায়হান ইসলামকে আটক করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন আইনে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মায়ের মৃত্যুর পর রাতে একটার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে মা ও মেয়েকে দাফন করা হয়।

বিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামীম আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ট্রাকচালক সাব্বির আহমেদ ও তাঁর সহকারী রায়হান ইসলামকে আটক করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন আইনে থানায় মামলা হয়েছে।"