লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার আটিয়াতলী এলাকায় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দীপ্ত টিভির জেলা প্রতিনিধি ও ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার জাহাঙ্গীর আলমকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালানোর সময় স্থানীয়রা সাকিব নামের একজনকে আটক করে পুলিশের নিকট সমর্পণ করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত জাহাঙ্গীর আলম মঙ্গলবার দুপুরে শহরের একটি স্কুল থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। আটিয়াতলী এলাকায় পৌঁছালে সাকিব বাহিনী প্রধান ও তার সহযোগীরা তাঁর পথরোধ করেন এবং মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বাধা দিলে তারা জাহাঙ্গীরের দিকে গুলি ছোড়ে। তবে সুযোগসন্ধানীদের হাত থেকে তিনি অল্পের জন্য রেহাই পান। পালানোর সময় স্থানীয়রা সাকিবকে আটক করে থানায় তুলে দেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাকিব সদর উপজেলার আটিয়াতলী এলাকার সেলিম ড্রাইভারের ছেলে এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের উপজেলা পর্যায়ের নেতা। তাঁর নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। এর আগে বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থী হত্যা ও মাদক আইনে তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা ছিল। সম্প্রতি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আবারও এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চার শিক্ষার্থী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি হিসেবেও তাঁর নাম রয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলমের বড় ভাই ও স্থানীয় দৈনিক মেঘনার তীর পত্রিকার সম্পাদক আব্বাছ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাকিবের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সাকিব ও তার অনুসারীরা এ হামলা চালিয়েছে। গুলিবিদ্ধ হলেও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান জাহাঙ্গীর। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

স্থানীয়রা ও ব্যবসায়ীরা সাকিব ও তার বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন আয়োজন করেন। এছাড়া সাকিবের বিরুদ্ধে আগেও জকসিন বাজারে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করা হয়েছিল।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত সাকিবকে আটক করে সদর থানায় পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।