২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণি ভর্তিতে অনলাইন আবেদনের শেষ তারিখ বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে বলে আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে।
১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন না করতে পারা শিক্ষার্থীরা এবং পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নে ফল পরিবর্তিত হওয়া শিক্ষার্থীরা আগামী ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। ভর্তি ওয়েবসাইটের নির্দেশিকা অনুসরণ করে যোগ্যতা অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৫টি ও সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানে আবেদন করা যাবে। আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২২০ টাকা।
আবেদনের আগে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, শিক্ষা বোর্ডের নাম, পাসের বছর, সচল মোবাইল নম্বর, পছন্দের কলেজের তালিকা ও বিভাগীয় তথ্য হাতের কাছে রাখতে হবে। সাবমিটের আগে ব্যক্তিগত ও পরীক্ষার তথ্য মিলিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী কোনো বাছাই পরীক্ষা নেওয়া হবে না। শুধুমাত্র এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। মোট আসনের ৯৩ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। অবশিষ্ট ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এই কোটাপদ্ধতি কেবল ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য।
মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে গেজেট বা প্রমাণপত্রের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল কপি দেখাতে হবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সনদ যাচাই করে ভর্তি সম্পন্ন করা হবে। প্রার্থী না পেলে ওই আসন খালি রাখা যাবে না, মেধাতালিকা থেকে পূরণ করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ আসন রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দপ্তরপ্রধানের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। প্রার্থী বেশি হলে কোটার মধ্যেই মেধার ভিত্তিতে ভর্তি হবে।
২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের ফল পাওয়া শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। নির্বাচিতদের ফল ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় প্রকাশিত হবে। ফল প্রকাশের পর ভর্তি নিশ্চয়নের শেষ সময় ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা। নির্ধারিত সময়ে নিশ্চয়ন না করলে আবেদন বাতিল গণ্য হবে। ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সবশেষে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু হবে।
সমান জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম নির্ধারণে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তি ধরা হবে। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করতে হবে। বিভিন্ন সালের ফল তুলনা করার সময়ও সমতুল্য মান নির্ধারণ প্রয়োজন। বিজ্ঞান বিভাগে সমান নম্বর হলে সাধারণ গণিত ও উচ্চতর গণিত/জীববিজ্ঞানের নম্বর বিবেচনা করা হবে। জটিলতা থাকলে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের নম্বর দেখা হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ের নম্বর বিবেচনায় আনা হবে। এক বিভাগের প্রার্থী অন্য বিভাগে আবেদন করলেও জিপিএ সমান হলে সর্বমোট নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে উপরের বিষয়গুলোর নম্বর বিবেচনা করা হবে।