মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রায় ১৮ কোটি ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও প্রস্তাবিত জায়গায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) পুরোনো ভবন অপসারণ না করায় নির্মাণ কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও ৫৪০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ না হলে অর্থ ফেরত যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অনুমোদিত এই প্রকল্পের আওতায় আটতলা ভিতবিশিষ্ট ছয়তলা প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম তৈরি হবে। ইতিমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তবে জমির মালিকানা ও স্থাপনা সরানোর জটিলতার কারণে প্রকল্পটি স্থবির অবস্থায় রয়েছে। ১৯৭৮ সালের ১৩ জুলাই ভূমি প্রশাসন উপজেলা পরিষদের দেড় বিঘা জমি বরাদ্দ দেয়। পরবর্তীতে ওই জমিতে বিআরডিবি, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যালয় এবং সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) গুদাম নির্মাণ করা হয়। নতুন ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্তের পর দুটি দপ্তর নিজেদের স্থাপনা সরানোর সম্মতি জানালেও বিআরডিবির একতলা ভবনটি অপসারণে বিরত থেকেছে।

বিষয়টি সমাধানে গত ৬ মে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর কাছে আধা সরকারি পত্র পাঠান। তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন, সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের ভবনটি জরাজীর্ণ ও অপ্রতুল হওয়ায় জনসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রস্তাবিত স্থানে বর্তমানে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) স্থাপনা অপসারণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। এর আগে গত ১৩ এপ্রিল জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি জানান।

জটিলতা বাড়ানোয় গত ১৯ আগস্ট সদর উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির (ইউসিসিএ) সভাপতি মো. আওলাদ হোসেন হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন, প্রথমে অফিসার্স ক্লাবের জায়গায় নতুন ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল, পরে তা পরিবর্তন করা হয়। আগের প্রস্তাবিত জায়গায় কমপ্লেক্স হলে বিআরডিবি ও অন্যান্য দপ্তরের স্থাপনা অপসারণের প্রয়োজন হতো না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী নাসরিন জানান, বিআরডিবি-কে জমি বরাদ্দ দেওয়া হলেও শর্ত ছিল—জমির মালিকানা হস্তান্তর করা যাবে না এবং ভাড়া প্রদান করতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি। প্রস্তাবিত জায়গা উপজেলা পরিষদের নামে রেকর্ডভুক্ত। অন্যদিকে, গত ৫ মার্চ বিআরডিবির মহাপরিচালক সরদার মো. কেরামত আলী মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠান। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালের আন্তমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিআরডিবির কোনো স্থাপনা উচ্ছেদ করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে জমিসংক্রান্ত বিরোধ দ্বিপক্ষীয় সভার মাধ্যমে নিষ্পত্তির কথা বলা হয়।

উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলী আজম বলেন, প্রকল্পে আটতলা ভিতবিশিষ্ট ছয়তলা ভবন নির্মাণে ১৮ কোটি ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ইতিমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তবে বিআরডিবি জায়গা ছেড়ে না দেওয়ায় অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে। সেই অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রস্তাবিত জায়গায় স্থাপনা অপসারণ করা প্রয়োজন।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স–সংলগ্ন পূর্ব পাশে প্রস্তাবিত জায়গায় বিআরডিবির একতলা পুরোনো ভবন, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের দ্বিতল ভবন এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের গুদাম রয়েছে। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি ইউএনও মৌসুমী নাসরিন পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক এবং পিআইওর কার্যালয়ের গুদাম অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পত্র দেন।

জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা গতকাল মুক্তকণ্ঠ কে বলেন, "সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণে অপর একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা দুঃখজনক বিষয়।" তিনি জানান, রিটের পর অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে সব কাগজপত্র দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধান হবে বলে তিনি আশা করেন। উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন বিষয়টি বিস্তারিত জানার পর মন্তব্য করবেন বলে জানিয়েছেন.