ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হুতিদের নিজস্ব গণমাধ্যম আনসারুল্লাহ। আজ মঙ্গলবার টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ইয়েমেনি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে শত্রুদেশ সৌদির ওপর ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে।

পৃথক একটি পোস্টে আনসারুল্লাহ উল্লেখ করে, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কিং খালিদ বিমানঘাঁটি এবং আবহা ও জিজানের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনা। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল সোমবার সৌদির জিজান শহরে অবস্থিত আরামকোর তেল স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালানো হয়। গত মাসেও একই স্থাপনায় হামলায় উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

সৌদিতে সর্বশেষ চালানো হামলার দায় গতকাল পর্যন্ত কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি। তবে আজ হুতিদের গণমাধ্যম আনসারুল্লাহ এই হামলার দায় নিল। জিজান সৌদি আরবের ইয়েমেন সীমান্তের সবচেয়ে কাছের শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত। অতীতেও শহরটিতে কয়েকবার হামলা চালিয়েছিল ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা।

ইরান-সমর্থিত হুতিরা গত জুলাইয়ে সৌদি আরবের লোহিত সাগরের বন্দরগুলো অবরোধের ঘোষণা দেয়। এ নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আবার সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে গোষ্ঠীটি। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ তারা সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে কয়েক দফা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

সৌদি আরব ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। তারা হুতিদের বিরুদ্ধে আরব জোটের নেতৃত্ব দেয়। তবে ২০২২ সালের এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির পর গত জুলাই পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের লড়াই হয়নি।