সৌদি আরবের জিজান শহরে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর স্থাপনায় সোমবার নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। গত মাসে একই রিফাইনারিতে হওয়া একটি হামলার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এই ঘটনা ঘটল। উল্লেখ্য, গত মাসের ওই হামলায় উৎপাদন কার্যক্রমের কিছু অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

এই হামলার খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ব্রেন্ট ক্রুড) দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৯৭ দশমিক ৪০ ডলারে পৌঁছেছে।

ঘটনার বিষয়ে অবগত দুজন ব্যক্তি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছেন, সৌদি আরামকোর তেল অবকাঠামোয় এই হামলা চালানো হয়েছে এবং বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তাঁদের একজন উল্লেখ করেছেন, এবারের হামলার মাত্রা গত মাসের ঘটনার কাছাকাছি। তবে সৌদি আরামকো তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ইয়েমেন সীমান্তের নিকটবর্তী শিল্পনগরী জিজানে অতীতেও বেশ কয়েকবার হামলা চালিয়েছে হুতিরা। যদিও সর্বশেষ এই হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি।

ইরান-সমর্থিত হুতিরা জুলাই মাসে সৌদি আরবের লোহিত সাগরের বন্দরগুলো অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর পুনরায় সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায়। এর পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে তারা দেশটির তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

জিজানে দিনে ৪ লাখ ব্যারেল তেল পরিশোধনের সক্ষমতাসম্পন্ন একটি রিফাইনারি রয়েছে, যা সৌদি আরবের অন্যতম বড় রিফাইনারি। এর পাশাপাশি সেখানে আরও কয়েকটি কারখানা ও জ্বালানি অবকাঠামো বিদ্যমান।

সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন নাসের গত মাসে বলেছিলেন, "ওই হামলায় কোম্পানিটির তেল উৎপাদনে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছিল। তবে এতে কোম্পানিটির কার্যক্রম বা আর্থিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়েনি।"

জ্বালানি ও পণ্যবাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে জিজান থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণ পরিশোধিত তেলজাত পণ্য রপ্তানি করা হলেও হুতিদের হামলা শুরুর পর তা নাটকীয়ভাবে কমে যায়। আগস্ট মাসে জিজান থেকে কোনো তেলজাত পণ্য পাঠানো হয়নি।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে হুতিদের বিরুদ্ধে আরব জোটের নেতৃত্ব দেয় সৌদি আরব। ২০২২ সালের এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর গত জুলাই পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের লড়াই হয়নি। তবে গত সপ্তাহান্তে হুতিরা সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূল বরাবর স্থল অভিযান শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাব আল-মানদেবের দিকে অগ্রসর হওয়ার লক্ষ্যেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। হুতিদের এই পদক্ষেপের ফলে ইয়েমেনে গত ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে।