নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানে শুল্ক-কর রেয়াত সুবিধা এবং নিম্ন স্তরের সিগারেটের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। আজ সোমবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সিদ্ধান্তগুলো জানায়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি উৎপাদনের প্ল্যান্ট স্থাপনের লক্ষ্যে যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানে ১ শতাংশের অতিরিক্ত কাস্টমস ডিউটি, সমুদয় রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, আগাম কর এবং অগ্রিম আয়কর থেকে প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ১৮০ দিন পর্যন্ত অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে জনজীবনে সৃষ্ট ভোগান্তি কমবে, শিল্প উৎপাদন চলমান থাকবে, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে, যন্ত্রপাতির ক্ষতি কমবে এবং বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এছাড়া দ্রুততম সময়ে নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি উৎপাদনের মাধ্যমে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। মন্ত্রিসভা প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত এ শুল্ক-কর রেয়াতি সুবিধা কার্যকর করার প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে।
অন্যদিকে, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২–এর আওতায় নিম্ন স্তরের সিগারেটের ন্যূনতম মূল্য পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন সংশোধনের প্রস্তাবও মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন স্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরামূল্য (প্রতি ১০ শলাকা) ‘৬২ টাকা ও তদূর্ধ্ব’-এর পরিবর্তে ‘৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব’ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সিগারেটের মূল্য নির্ধারণ এবং স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহার বিধিমালা সংক্রান্ত দুটি প্রজ্ঞাপন পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়। এর ফলে নিম্ন স্তরের সিগারেটের অবৈধ বাণিজ্য ও রাজস্ব ঘাটতি হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে প্রমোশন অ্যান্ড প্রটেকশন অব ইনভেস্টমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট শীর্ষক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানায়, হংকং বিশ্বের অন্যতম উন্নত ও উন্মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল। বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হংকংয়ের অবস্থান ষষ্ঠ। বাংলাদেশের পোশাক, টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন খাতে হংকংয়ের বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করেছেন। এ চুক্তি উভয় পক্ষের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে, যা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষের বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। চুক্তির মেয়াদ ১০ বছর। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের তিন বছর পর উভয় পক্ষ চুক্তি সংশোধন করতে পারবে, এ–সংক্রান্ত বিধান খসড়া চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য একটি কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে।