দুদিনের সরকারি সফর শেষ করে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠের হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে তিনি যাত্রা করেন। প্রটোকল অনুযায়ী বেলা ৩টায় রওনা হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২০ মিনিট আগেই তিনি জেলাটি ত্যাগ করেন। বিদায় জানান জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন এবং নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজক কমিটির সদস্যরা।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই ছিল তার প্রথম সরকারি সফর। এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে পৌঁছান। সেখানে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজক কমিটির সদস্যরা তাকে স্বাগত জানান। এরপর তিনি জেলা সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন।

সফরের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি শহরের সেনুয়া কবরস্থানে গিয়ে তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন। এরপর কালীবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে গিয়ে দুপুরের খাবার গ্রহণ ও বিশ্রাম নেন। বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় যোগ দেন তিনি। রাষ্ট্রপতিকে একনজর দেখার জন্য জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে ভিড় করেন। সংবর্ধনা শেষে বাসভবনে ফিরে তিনি গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং রাতে সেখানেই অবস্থান করেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার সকালে পুনরায় আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টি যথাযথভাবে গড়ে তোলা এবং এর উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন।

সফরের শেষ পর্যায়ে দুপুরের দিকে বাসভবনে খাবার ও বিশ্রাম নেওয়ার পর তিনি জেলা সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন এবং মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামের হেলিপ্যাড হয়ে ঢাকার পথে রওনা হন।

রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম, জেলা সার্কিট হাউস, সেনুয়া কবরস্থান, রাষ্ট্রপতির বাসভবন, গণসংবর্ধনা স্থল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনস্থলসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করে নজরদারি বাড়ানো হয়। রাষ্ট্রপতির এই সফর ঘিরে পুরো জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।