দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুই দিনের এই সফরে আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছাবেন। রাষ্ট্রপতির এই আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

সফর উপলক্ষে শহরজুড়ে ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো এবং রাস্তাঘাটে আলোকসজ্জাসহ ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মূল অনুষ্ঠানের জন্য ঠাকুরগাঁও জিলা স্কুলের বড় মাঠে বিশেষ মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে এবং সেখানে জনসাধারণের চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সফরের প্রথম দিন রোববার রাষ্ট্রপতি তাঁর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করবেন এবং নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেবেন। দ্বিতীয় দিন সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার কথা রয়েছে তাঁর।

রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই সফর নিয়ে যেমন আবেগ রয়েছে, তেমনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

পৌরসভার বাসিন্দা মামুন হক বলেন, "রাষ্ট্রপতির এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তার সফরের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে—এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।"

হাবিব নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, "এটি কেবল একজন রাষ্ট্রপতির নিজ জেলা সফর নয়; ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের জন্য তাদের ঘরের সন্তানকে নতুন পরিচয়ে কাছে পাওয়ার এক আবেগঘন মুহূর্ত। তাই রাষ্ট্রপতিকে বরণে প্রস্তুত শহর, প্রস্তুত প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ। এখন অপেক্ষা শুধু তাঁর আগমনের।"

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গম আলী বলেন, "রাষ্ট্রপতির আগমনকে ঘিরে জেলার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। নিজ জেলার সন্তান রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে আসছেন, এটি ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য পরম গর্বের বিষয়।"

জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, "রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাতেই বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আনন্দে উদ্বেলিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রাষ্ট্রপতির আগমন নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।"

তিনি আরও বলেন, "রাষ্ট্রপতির আগমনকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। একদিকে ঘরের ছেলেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বরণ করে নেওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে জেলার উন্নয়ন-প্রত্যাশা—এ দুয়ের মেলবন্ধনে তাঁর আগমনের অপেক্ষায় পুরো ঠাকুরগাঁওবাসী।"

নিরাপত্তা বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন জানান, রাষ্ট্রপতির ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বরের সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল, যাতায়াতের সড়ক ও আশপাশের এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।