হাইকোর্ট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১৪৭ জন অবসরপ্রাপ্ত সচিবের বকেয়া আনুতোষিক ও নিয়মিত উৎসব ভাতা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। রায় পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে বকেয়া আনুতোষিক পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ রায় দেন। এক রিট মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের মো. ইউসুফ ভূঁইয়াসহ ১৪৭ জন অবসরপ্রাপ্ত ইউপি সচিব বকেয়া আনুতোষিক ও বিধিমালা অনুযায়ী নিয়মিত উৎসব ভাতা প্রদানের দাবিতে ২০২২ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। আদালত প্রাথমিক শুনানির সময় রুল জারি করেন এবং শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হয়।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আল আমিন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খন্দকার বাহার রুমি।
শুনানি শেষে আইনজীবী হুমায়ন কবির মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "রিট আবেদনকারী ইউনিয়ন পরিষদের অবসরপ্রাপ্ত সচিবেরা অবসর গ্রহণের সময় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গ্রস পেনশনের ৫০ শতাংশ বাধ্যতামূলক সমর্পণ করে তার বিপরীতে আনুতোষিক পেয়েছেন। তবে গ্রস পেনশনের বাকি ৫০ শতাংশ সমর্পণ করা সত্ত্বেও কোনো ধরনের আনুতোষিক পাননি। নিয়ম অনুযায়ী সমর্পিত বাকি ৫০ শতাংশের বিপরীতে তাঁরা ওই অর্থের অর্ধেক হারে এককালীন আনুতোষিক প্রাপ্য হবেন। সুস্পষ্ট কোনো কারণ ছাড়া বাকি আনুতোষিক না পাওয়ার প্রেক্ষাপটে তাঁরা রিটটি করেন।"
তিনি আরও জানান, হাইকোর্ট রিট আবেদনকারী অবসরপ্রাপ্ত ১৪৭ জন সচিবের সার্ভিস রেকর্ড যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে প্রাপ্য গ্রস পেনশনের এককালীন বাকি ২৫ শতাংশ (সব মিলিয়ে ৭৫ শতাংশ) আনুতোষিক ও নিয়মিত উৎসব ভাতা প্রদান করতে নির্দেশ দিয়েছেন। রায় পাওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে বকেয়া আনুতোষিক ও বকেয়া উৎসব ভাতা প্রদান করতে এবং নিয়মিত উৎসব ভাতা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনকারীপক্ষ জানায়, ২০১১ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকুরি বিধিমালা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পরিষরের নিজস্ব কর্মচারী। বিধিমালা অনুযায়ী যেহেতু তাঁরা অন্যান্য সরকারি কর্মচারীর মতো মাসিক পেনশনের আওতাভুক্ত নন, সেহেতু গ্রস পেনশন পুরোটা সরকারের কাছে সমর্পণ করে গ্রস পেনশনের সমুদয় পরিমাণ থেকে মোট ৭৫ শতাংশ এককালীন আনুতোষিক পাওয়ার বিধান রয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান এবং উৎসব ভাতা দেওয়ার বিধানও রয়েছে। তবে তাঁদের ওই আনুতোষিক প্রদান না করা এবং কোনো ধরনের উৎসব ভাতা না দেওয়া আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।