সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী দুটি ফৌজদারি মামলায় জামিন পেয়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু মামলা চলমান থাকায় আপাতত তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলা এবং কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা দুই মামলার রুলের ওপর শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করেন। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর এই মামলাগুলোতে হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন। আজকের এই রায়ের মাধ্যমে উক্ত মামলায় জামিন নিশ্চিত হলো। এর আগে গত ২ আগস্ট পুলিশি কাজে বাধা ও ভাঙচুরের অভিযোগে করা অপর দুই মামলায়ও তাকে জামিন দেওয়া হয়েছিল।
আদালতে চিন্ময়ের পক্ষে আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য শুনানি করেন। তাঁর সাথে ছিলেন আইনজীবী জয়া ভট্টাচার্য, অনুপ কুমার সাহা এবং মিন্টু কুমার মন্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুরুল আলম সুজন।
চিন্ময়ের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য জানান, তাঁর বিরুদ্ধে মোট ছয়টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যা মামলার বিচার ট্রাইব্যুনালে চলছে। রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় তাঁর জামিন স্থগিত রয়েছে। ইতিপূর্বে চারটি মামলার মধ্যে দুটিতে হাইকোর্ট জামিন দিয়েছেন। আজ বাকি দুই মামলায় জামিন পাওয়ায় মোট চার মামলায় জামিন নিশ্চিত হলো। তবে অবশিষ্ট দুই মামলা চলমান থাকায় আপাতত তিনি কারামুক্তি পাচ্ছেন না।
এদিকে, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুরুল আলম সুজন বলেন, "দুই মামলায় হাইকোর্ট জামিন দিয়েছেন। এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে নোট দেওয়া হয়েছে।"
উল্লেখ্য, জাতীয় পতাকা অবমাননায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে করা মামলার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পৃথক মামলা রয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন। পরবর্তীতে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাগারে আছেন।