এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের অভিযান সমাপ্ত হয়েছে। রোববার উজবেকিস্তানের তাসখন্ডের দোস্তলিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ভারতের কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়ে গ্রুপের তলানিতে থেকেই দেশের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল লাল-সবুজরা। তিন ম্যাচে তিনটি পরাজয়ের মুখে থাকা বাংলাদেশের গোল শূন্য থাকলেও তারা মোট সাত গোল হজম করেছে।

বাংলাদেশের হয়ে গোল করেছেন ড্যানি মেইতেই লাইশরাম, বিশাল যাদব ও বদলি মোহাম্মদ আরবাশ। প্রথমার্ধে এক গোলে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ বিরতির পর আরও দুটি গোল হজম করে ম্যাচটি হারায়।

ম্যাচের শুরুতে দুই দলের লড়াই ছিল সমানে সমান। প্রথম ২০ মিনিটে কেউই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। তবে ২৫ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুল কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় ভারত। বাংলাদেশের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ আবদুল রিয়াদ ফাহিমকে চাপে ফেলে বল কেড়ে নেন ভারতের খেলোয়াড়রা। এরপর হাতিম আলীর কাছ থেকে বল পেয়ে দুই ডিফেন্ডারকে টেনে নিজের দিকে নিয়ে ড্যানির জন্য জায়গা তৈরি করেন। বক্সের মধ্যে ফাঁকায় বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন ড্যানি।

গোলের পর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ভারত। ৩৪ মিনিটে ড্যানির ফ্রি-কিক থেকে ব্যবধান বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তবে বাংলাদেশের গোলরক্ষক রাজ চৌধুরী সেটি ঠেকিয়ে দেন। ফলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের চাপ আরও বাড়ে। ৬০ মিনিটে লম্বা থ্রো থেকে রিশিকান্তার হেড হয়ে আসা বল অ্যাক্রোবেটিক ফিনিশে জালে পাঠান বিশাল যাদব। ব্যবধান হয়ে যায় ২-০। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর বাংলাদেশ কিছুটা আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করলেও ভারতের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। বরং ৭৯ মিনিটে তৃতীয় গোলটি হজম করে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় লাল-সবুজরা। কয়েকটি পাসে বাংলাদেশের রক্ষণ খুলে দেওয়ার পর বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করেন বদলি নামা মোহাম্মদ আরবাশ।

শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত। এই জয়ে তিন ম্যাচ থেকে ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তারা। এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ভারতের জায়গা হবে কি না, সেটি অবশ্য নির্ভর করছে গ্রুপের অন্য ম্যাচ ও সেরা রানার্সআপদের হিসাবের ওপর।

বাংলাদেশের জন্য বাছাইপর্বটা ছিল পুরোপুরি হতাশার। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক উজবেকিস্তানের কাছে ২-০ গোলে হারের পর সিরিয়ার বিপক্ষে হার ছিল ৩-০। প্রথম দুই ম্যাচের পর ব্রিটিশ কোচ জেরার্ড জোনসকে সরিয়ে সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মেশুকে ভারতের বিপক্ষে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোচ বদলেও মাঠের ছবিটা বদলায়নি।

আরও হতাশার বিষয়, কয়েক মাস আগেই সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রথমবারের মতো এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করার লক্ষ্য ছিল দলের। অথচ উজবেকিস্তানে তিন ম্যাচের একটিতেও গোল করতে না পেরে গ্রুপের শেষ দল হিসেবেই দেশে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।