ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত কদমতলী এলাকায় গত ১৪ দিন ধরে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। গত ২৩ আগস্ট থেকে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় রান্নাবান্না ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকার হাজারো পরিবার। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করায় বাড়তি খরচের বোঝা বহন করতে পারছেন না।

এই ভোগান্তি লাঘবে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) কদমতলী এলাকাবাসী তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কেরানীগঞ্জ জোনাল অফিসের মহাব্যবস্থাপকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিতাস গ্যাসের বৈধ গ্রাহক হিসেবে নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসলেও গত ২৩ আগস্ট হঠাৎ করে তাদের বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রান্নাবান্না থেকে শুরু করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, গ্যাস সংকটের কারণে তারা বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার গ্যাস কিনে রান্নার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে পরিবারের মাসিক ব্যয় বেড়ে গেছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি শিশু, শিক্ষার্থী এবং বয়োবৃদ্ধদেরও এই সময়ে কষ্ট পেতে হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গ্যাস সংকট নিরসনের দাবিতে তারা ইতোমধ্যে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। বিষয়টি গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। এরপরও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে তিতাস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে বিল পরিশোধ করেও গ্যাস না পাওয়া অত্যন্ত দুর্ভোগের বিষয়। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে।

স্মারকলিপিতে অবিলম্বে কদমতলী এলাকায় গ্যাস সরবরাহ সচল করে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। কদমতলী এলাকাবাসীর পক্ষে স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন মো. আকরাম হোসেন। এ সময় হাজি লিটন, মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জহিরসহ এলাকার শতাধিক ভুক্তভোগী উপস্থিত ছিলেন।