বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডে প্রায় ৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে চলমান সড়ক পুনর্নির্মাণ কাজের মধ্যেই একটি স্থাপনা বা দোকানঘর সড়কের মাঝখানে অবস্থান করছে। এতে সড়কের স্বাভাবিক প্রস্থ বজায় রাখা, যান চলাচলের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ এই সড়কটির পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে দেখা যায়, একটি অংশে আরসিসি (RCC) ঢালাইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সড়কের ওপর রডের জাল বসানো হলেও মাঝখানে থাকা দোকানঘরটি সরিয়ে না নিয়ে পাশ কাটিয়ে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় টেকসই আরসিসি সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি দুই পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগেও সড়কের পাশের কয়েকটি স্থাপনা নিয়ে জটিলতার কারণে ড্রেন নির্মাণের একটি অংশ অসম্পূর্ণ থাকার অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, জমি নিয়ে মামলাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ওই অংশের কাজ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক নির্মাণের আগে নকশা অনুযায়ী জায়গা নির্ধারণ এবং প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করার কথা। তাহলে সড়কের মাঝখানে থাকা স্থাপনাটি আগে চিহ্নিত করে সরানো হলো না কার স্বার্থে? সড়কের মাঝখানে থাকা স্থাপনাটি অপসারণ না করে কাজ শেষ করা হলে ভবিষ্যতে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। পরে স্থাপনাটি সরাতে হলে নতুন করে সরকারি অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।
এ বিষয়ে বরিশাল বন্দর নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "রাস্তা সংস্কারের সময় যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে, তা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কারণে।" বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানিয়েছেন। তবে সড়কের মাঝখানে থাকা স্থাপনাটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন ভালো বলতে পারবেন।"
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন বলেন, "সড়কের মধ্যে থাকা দোকানটি বিআইডব্লিউটিএর স্থাপনা।" কেন স্থাপনাটি সড়কের এলাইনমেন্টের মধ্যে রয়েছে—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, "বিষয়টি বন্দর নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান ভালো বলতে পারবেন।"
দুই কর্মকর্তার বক্তব্যে স্থাপনাটির দায় ও সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি। অথচ সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্পে নির্মাণকাজ শুরুর আগে সড়কের জায়গা নির্ধারণ, নকশা অনুযায়ী এলাইনমেন্ট নিশ্চিত করা এবং সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম খান রাজন বলেন, "মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এমন কোনো স্থাপনা রাখা যাবে না।" সংশ্লিষ্ট স্থাপনাটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, "এর সঙ্গে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট কারও স্বার্থ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।" কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে যেন সড়কের অনুমোদিত নকশা ও এলাইনমেন্ট পরিবর্তন না হয়। দ্রুত স্থাপনাটি অপসারণ করে পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সম্পন্ন এবং প্রকল্পের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুন খন্দকার বলেন, "স্থাপনাটি রাস্তার মধ্যেই পড়েছে।" রাস্তার এলাইনমেন্ট অনুযায়ীই সড়ক নির্মাণ করা হবে। সেখানে কোনো অবৈধ স্থাপনা থাকলে অবশ্যই অপসারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, "বিষয়টি নিয়ে বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে কথা হয়েছে।" স্থাপনাটি অপসারণের জন্য তাদের বলা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ ব্যবস্থা না নিলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।