শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে সিলেটের প্রতিটি পূজামণ্ডপে আতশবাজি ব্যবহার এবং দর্শনার্থী বা স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরক্তি কিংবা উদ্বেগের কারণ হতে পারে এমন সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, “প্রতিটি পূজামণ্ডপে পূজা উদযাপন কমিটি, আনসার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করতে হবে। কোনো ধরনের আতশবাজি বা এমন কার্যক্রম করা যাবে না, যাতে দর্শনার্থী ও স্থানীয় মানুষের বিরক্তি বা উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শারদীয় দুর্গাপূজা যেন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সঠিক গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো সমস্যা হলে বিকল্প হিসেবে জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখতে হবে।” পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে দায়িত্ব পালনের তথ্য সংরক্ষণের জন্য ডিউটি রেজিস্টার যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়।

গুজব প্রতিরোধে সতর্কবার্তা দিয়ে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে জানাতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য বা ছবি প্রচারের আগে এর সত্যতা যাচাই করতে হবে। গুজবের বিষয়ে কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নেবেন না। এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।”

ডিসি জানান, প্রতিটি উপজেলায় পূজা উদযাপন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সমন্বয়ের জন্য যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে দল চালু করা হবে। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে পর্যবেক্ষণ দল গঠন করা হবে। এছাড়া প্রয়োজনে বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে উপজেলা পর্যায়ে নজরদারি দল গঠনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে তিনি জানান।

পূজা উদযাপন কমিটি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়া বিসর্জনের সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। তিনি সিলেট মহানগর এলাকায় রাত ৯টার মধ্যে এবং জেলার অন্যান্য এলাকায় সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বিসর্জন কার্যক্রম সম্পন্ন করার অনুরোধ করেন।

উক্ত সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।