ঢাকার সাভারের আমিনবাজার বড়দেশি এলাকায় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাব হোসেনকে (৬০) পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় তাঁর ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামকে (২৬) মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। গতকাল শনিবার রাত আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, মদিনা সিটি এলাকায় আলতাবের দুই ছেলের একটি পোশাক কারখানা রয়েছে। ওই রাতে কারখানাসংলগ্ন অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ও অটোরিকশার সাইড দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে মারধর করা হচ্ছে দেখে আলতাব সেখানে যান এবং বিষয়টি থামানোর চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি দেখে তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দিলেও হামলাকারীরা তাঁকে চড় মারে এবং কানে আঘাত করে। এরপর আলতাব দৌড়ে কারখানায় প্রবেশ করলে তাঁর ছেলে আরিফুলও সাথে আসেন।
গাড়িটি কারখানার গেটের সামনে পৌঁছালে গাড়িতে থাকা কয়েকজনসহ মোট ২০ থেকে ২৫ জন জড়ো হন। পরিস্থিতি সংকটাপন্ন দেখে আলতাব ও আরিফুল কারখানার ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। তবে হামলাকারীরা ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে আলাউদ্দিন নামের একজন প্রথমে আরিফুলকে মেঝেতে ফেলে বুকে লাথি মারেন। একই সময়ে পেছন থেকে কেউ ভারী বস্তুর আঘাতে আরিফুল অচেতন হয়ে পড়েন। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আলতাবকেও মারধর করা হয়। পরে আশপাশের স্থানীয়রা এগিয়ে এসে বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা আলতাব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন, অন্যদিকে আরিফুলকে ভর্তি করা হয়।
নিহত আলতাব সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার নিয়ে তিনি সাভারের আমিনবাজার বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাঁর বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে জানান, গতকাল ছুটি থাকায় তিনি বাড়িতে ছিলেন। পরে কারখানায় গেলে এই ঘটনার কথা জানতে পারেন। তিনি অভিযোগ করেন, সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কার তাদের কারখানার সামনে প্রতিনিয়ত ঘোরাফেরা করে। গাড়িতে চালকসহ চার থেকে পাঁচজন থাকেন। কারখানার বাম পাশে বালু ফেলায় তৈরি মাঠে তারা নেশা করতেন। তিনি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমিনবাজার বড়দেশি এলাকায় এক এসবি সদস্যকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।