কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে মাদকবিরোধী স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে অস্ত্র ও ককটেলসহ রকি হোসেন (২২) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে স্থানীয়রা দৌলতপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। আটকের সময় ধাওয়ার চেষ্টাকালে তিনি আহত হন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। উপজেলার সিরাজনগর বেলতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। আটক রকি হোসেন ওই এলাকার মৃত বজলুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সিরাজনগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবী ও কারবারিদের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বাসিন্দারা। মাদকমুক্ত এলাকা গড়ার দাবিতে শুক্রবার রাতে স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল করে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাত ৮টার দিকে সিরাজনগরের একটি বাঁশবাগানে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের খবর পেয়ে সেখানে জড়ো হন এলাকাবাসী।
এ সময় স্থানীয়দের ভয় দেখিয়ে ছত্রভঙ্গ করতে রকি ও তার সহযোগীরা ফাঁকা গুলি ছোড়ে এবং কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে গুলির শব্দ ও ককটেল বিস্ফোরণ উপেক্ষা করে তাদের ধাওয়া দেন এলাকাবাসী। একপর্যায়ে রকির সহযোগীরা পালিয়ে গেলেও স্থানীয়রা রকিকে ধরে গণধোলাই দেন।
পুলিশ জানায়, আটকের পর রকির কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, রামদা ও একটি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসা শেষে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, "অস্ত্র ও ককটেলসহ এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন এলাকাবাসী। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও বিস্ফোরকের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।"