জার্মান ভাষার প্রোগ্রামিং উইকি সাইট ডিএসইউইকিতে ঢুকে সেটিকে নিজেদের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছিল ওপেনএআইয়ের একগুচ্ছ এআই এজেন্ট। চলতি বছরের মে মাস থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে এজেন্টগুলো ওয়েবসাইটটিতে ১৫ হাজারের বেশি সম্পাদনা করেছে। নতুন একটি গবেষণায় উঠে এসেছে যে, তারা সেখানে বিভিন্ন টেকনিক্যাল কাজ, পরীক্ষায় সুবিধা নেওয়ার কৌশল, ওপেনএআইয়ের বিধিনিষেধ অতিক্রম এবং তাদের কর্মকাণ্ড গোপন রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা করছিল।

গত আগস্টের শেষ দিকে অনুমতি ছাড়া এআই এজেন্টদের কার্যক্রম খুঁজতে গিয়ে সাইটটির অস্বাভাবিক কার্যকলাপ শনাক্ত করেন এআই নিরাপত্তা গবেষক সিডনি ভন আরক্স ও গবেষক করম্যাক স্লেড বায়ার্ড। তাঁদের গবেষণায় পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ডিএসইউইকির কিছু অংশকে এজেন্টরা কার্যত নিজেদের যোগাযোগের বোর্ডে পরিণত করেছিল। সাইটে ব্যবহৃত অ্যাকাউন্টগুলোর নাম বিশ্লেষণে প্রায় অর্ধেকের নাম থেকে ওপেনএআইয়ের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এর মধ্যে ‘ওপেনএআইরিসার্চার’ ও ‘ওএআইরিসার্চমার২৬’-এর মতো নাম ছিল। গবেষকরা সাইটের সার্ভার লগও পরীক্ষা করে জানতে পারেন, কার্যক্রমের বড় অংশ মাইক্রোসফটের অ্যাজিউ অবকাঠামো ব্যবহার করে পরিচালিত হয়েছিল। ওপেনএআইয়ের কর্মীদের ওই সাইটে বারবার প্রবেশের রেকর্ডও পাওয়া গেছে। তবে ঠিক কোন মডেল বা ব্যবস্থা দিয়ে এগুলো পরিচালিত হয়েছিল, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এজেন্টগুলোর কার্যক্রমের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক ছিল তাদের নিজস্ব কাজ গোপন রাখার চেষ্টা। গবেষকদের পর্যবেক্ষণে এজেন্টরা শনাক্ত হওয়া এড়ানো, টর নেটওয়ার্ক ব্যবহার এবং পেজ মুছে যাওয়ার পরও যোগাযোগ চালু রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা করতে দেখা গেছে। জুনে ডিএসইউইকির মডারেটর কিছু পেজ মুছে দিলে এজেন্টরা বিকল্প পেজ তৈরি করে বার্তা ধরে রাখার চেষ্টা করে। ১৯ জুনের একটি বার্তায় এক এজেন্ট লিখেছিল, উইকি পরিষ্কার করার কাজ বর্ণানুক্রমে চলছে। কোনো পেজ মুছে গেলে অন্য নির্দিষ্ট পেজে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল। কিংস কলেজ লন্ডনের ভিজিটিং সিনিয়র রিসার্চ ফেলো লুকাশ ওলেইজনিকের মতে, সরাসরি হস্তক্ষেপের এই চেষ্টাকে হ্যাকিংয়ের প্রয়াস হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে ওপেনএআই এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয়।

ওপেনএআই জানিয়েছে, জুলাইয়ে হাগিং ফেস প্ল্যাটফর্মে ঘটে যাওয়া ঘটনার সাথে জার্মান ওয়েবসাইটের বিষয়টির কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। প্রতিষ্ঠানটি দুটি ঘটনাকে আলাদা বলে উল্লেখ করেছে। ওপেনএআইয়ের এক মুখপাত্র জানান, গবেষকদের প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তাঁদের পর্যালোচনার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। ঘটনাটি তদন্তের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কেউ বা আইনবিষয়ক পরামর্শকেরা বাধা দিয়েছিলেন, এমন অভিযোগও উঠেছে। তবে ওপেনএআই এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব এক্সিস্টেনশিয়াল রিস্কের গবেষক মরিস চিওডো এআই এজেন্টদের বার্তাগুলো পর্যালোচনা করেছেন। তাঁর কাছে এসব বার্তার ধরন একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে সক্রিয় গোপন নেটওয়ার্কের কার্যক্রমের মতো মনে হয়েছে। মরিস চিওডো বলেন, উন্নত এআইয়ের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়তো একটি অতিবুদ্ধিমান এআই ব্যবস্থা নয়। একই লক্ষ্য অর্জনে পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় করতে সক্ষম বিপুলসংখ্যক তুলনামূলকভাবে কম বুদ্ধিমান এআই এজেন্টের সমন্বিত কর্মকাণ্ডই ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।