সারের সংকটের মধ্যে কুড়িগ্রাম ও বগুড়ায় অভিযান চালিয়ে প্রশাসন মজুতকৃত বিপুল পরিমাণ সার উদ্ধার করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ভূরুঙ্গামারীতে গোয়ালঘর ও খড়ের মাচা থেকে ২ হাজার ১৫০ কেজি এবং আদমদীঘিতে দুটি গুদাম থেকে ১ হাজার ৬৭৫ বস্তা সার জব্দ করা হয়। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও কালোবাজারে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত জড়িতদের জরিমানা ও কারাদণ্ড দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন। মো. বেলাল মিয়া ও মো. মানিক উদ্দিনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে গোয়ালঘর, ধান রাখার ঘর ও খড়ের মাচা থেকে সারগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সারে ৪২ বস্তায় ১ হাজার ৫০০ কেজি ইউরিয়া ও ৬৫০ কেজি ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) রয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিম উদ্দিন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক। কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত বেলাল মিয়া ও মানিক উদ্দিনকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।
চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের কৃষক আবদুল মামুন বলেন, "চারদিকে সারের জন্য হাহাকার পড়েছে। ডিলারের কাছে গেলে সার পাওয়া যায় না, বাজারের খুচরা দোকানেও সার মিলছে না। অথচ কিছু অসাধু ব্যক্তি সার মজুত করছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এলাকায় সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।"
ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন বলেন, "সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ যাতে অবৈধভাবে সুবিধা নিতে না পারেন, সে জন্য সার বিতরণব্যবস্থায় নজরদারি করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে নয়টার দিকে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার নসরতপুর বাজারে অভিযান চালানো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা বেগমের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুটি গুদাম থেকে ১ হাজার ৬৭৫ বস্তা সার জব্দ করে। চলতি রোপা আমন মৌসুমে চাঁপাপুর ইউনিয়নের সার ডিলার মেসার্স মঙ্গল চন্দ্র সাহা ও মেসার্স সচিব চন্দ্র সাহার নামে বরাদ্দকৃত ডিএপি, এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) ও ইউরিয়া সার নির্ধারিত গুদামে না রেখে এখানে মজুত করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে সন্ধ্যায় গুদাম দুটি ঘেরাও করে প্রশাসনকে খবর দেন।
অভিযানে সার মজুতের সত্যতা পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত মেসার্স মঙ্গল চন্দ্র সাহা ও মেসার্স সচিব চন্দ্র সাহার স্বত্বাধিকারী সচিব চন্দ্র সাহাকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। জব্দকৃত সারগুলো গুদাম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং গুদাম দুটি সিলগালা করা হয়। অভিযানের সময় উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা সজল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।