ইংল্যান্ডের মাটিতে টানা দুই টেস্টে বিধ্বস্ত পাকিস্তান। মাঝপথেই সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি বদলে দেওয়া হয়েছে দলের দুই কোচকে। পাকিস্তান ক্রিকেটের এমন অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার অপ্রত্যাশিত হারের উদাহরণ টানলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নাকভি বলেন, ‘একটা প্রশ্ন করি, দক্ষিণ আফ্রিকা নামিবিয়ার কাছে হেরেছে, ভারত হেরেছে আয়ারল্যান্ডের কাছে। সেখানে কি ক্রিকেট শেষ হয়ে গেছে?’

গত জুনে আয়ারল্যান্ডের কাছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরেছিল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকাও নামিবিয়ার কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে পরাজিত হয়। নাকভির মতে, বড় দলগুলোর এমন হার মানেই সেই দেশের ক্রিকেট শেষ হয়ে যাওয়া নয়। পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও একইভাবে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তবে তার এই তুলনা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, অন্য দলের বিচ্ছিন্ন অঘটনের সঙ্গে পাকিস্তানের টেস্ট ক্রিকেটের ধারাবাহিক ব্যর্থতার তুলনা কতটা যুক্তিসংগত।

চলতি সিরিজের প্রথম টেস্টে হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানে হেরেছিল পাকিস্তান। এরপর লর্ডসে তাদের হার ১৯৪ রানে। চার ইনিংসের একটিতেও ২০০ রান করতে পারেনি সফরকারীরা। তিন ম্যাচের সিরিজে এরই মধ্যে ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ইংল্যান্ড।

টানা দুই বড় হারের পর মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক ও সালমান আলী আগাসহ সাত ক্রিকেটারকে দেশে পাঠিয়েছে পিসিবি। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শেষ টেস্টে দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাইক হেসন ও অ্যাশলি নফকেকে।

নাকভি অবশ্য একে আতঙ্কিত হয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখতে নারাজ। তার ভাষায়, প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন খেলোয়াড় আনা হবে। কেউ ছন্দে না থাকলে কিংবা পারফর্ম করতে ব্যর্থ হলে পরিবর্তন ছাড়া বোর্ডের সামনে বিকল্প থাকে না।

পাকিস্তানের সাদা বলের ক্রিকেটে উন্নতির কথাও তুলে ধরেছেন পিসিবি চেয়ারম্যান। তার দাবি, বর্তমান কোচিং কাঠামোর দায়িত্ব নেওয়ার পর ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তান আট থেকে পাঁচ এবং টি-টোয়েন্টিতে নয় থেকে ছয় নম্বরে উঠেছে।

টেস্টে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদ জানিয়েছেন নাকভি। তার বিশ্বাস, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির মতো সময়ের সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটেও উন্নতি করবে পাকিস্তান। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টে বড় পরিবর্তনের দলটি কেমন করে, সেটিই এখন তাঁর দাবির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।