চলতি মৌসুমের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। তবে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি বলছেন, এ বিষয়ে কেবল ‘অর্ধেক গল্প’ বলা হচ্ছে। পুরো ঘটনা সামনে আনলে সিদ্ধান্তের কারণও পরিষ্কার হবে।
বৃহস্পতিবার বিসিবির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিমের কাছে জানতে চাওয়া হয়, আগের বোর্ডকে বিপিএল আয়োজনের অনুরোধ করেও এখন কেন নিজেই টুর্নামেন্ট স্থগিত করেছেন।
জবাবে তামিম বলেন, ‘অনেককে বলতে শুনেছি, আমি খেলোয়াড়দের নিয়ে গিয়ে বিপিএল আয়োজন করতে বাধ্য করেছিলাম। কাউকে বাধ্য করার প্রশ্নই আসে না। আমাদের অনুরোধ ছিল, ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমলেও যেন বিপিএল আয়োজন করা হয়।’
তবে সেটিই পুরো ঘটনা নয় বলে দাবি বিসিবি সভাপতির। বিপিএল আয়োজনের অনুরোধ জানানোর এক সপ্তাহ পরই ঝুঁকিপূর্ণ দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে দল না দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন তিনি।
তামিম বলেন, ‘এক সপ্তাহ পর একই ব্যক্তির কাছে গিয়ে বলেছিলাম, এই দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে দল দেবেন না। এতে সমস্যা হবে। শুধু একপক্ষের গল্প বলে অন্য অংশটি বাদ দেওয়া ঠিক নয়। রাজশাহীকে দল না দিতে বলেছিলাম, কারণ সমস্যা হবে। শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়েছে।’
আর্থিক ক্ষতি এড়াতেই বিসিবি বিপিএল স্থগিত করেছে, এমন ধারণাও প্রত্যাখ্যান করেছেন তামিম। তার দাবি, ক্রিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার পাওনা ঠিকভাবে পরিশোধ করা হলে প্রয়োজনের সময় আর্থিক ক্ষতি মেনে নেওয়ার সামর্থ্য বোর্ডের রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডের নির্দিষ্ট অঙ্কের ক্ষতি হলে সেটি বহন করার সামর্থ্য বিসিবির আছে। খেলোয়াড়, হোটেল ও পরিবহনসহ সব পাওনা ঠিকভাবে দেওয়া হলে আমরা সেই ক্ষতি নিতে প্রস্তুত। কিন্তু গত দুই-তিন বছরে বিপিএলের কোন বিষয়টি ঠিক ছিল?’
বিপিএল স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হচ্ছে না বলেও আশ্বস্ত করেছেন বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘বিপিএল স্থগিত হয়েছে, বাতিল হয়নি। আমরা চেষ্টা করব, যেন আরও ভালোভাবে বিপিএল আয়োজন করা যায়।’
টুর্নামেন্ট না হওয়ায় ক্রিকেটারদের হতাশার বিষয়টি স্বীকার করলেও সিদ্ধান্ত বদলানোর ইঙ্গিত দেননি তামিম। গত কয়েক মৌসুমের অনিয়ম দূর করতে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হবে বলে মনে করেন তিনি।
ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি কমাতে একই সংবাদ সম্মেলনে ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ ফি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তামিম। তার ভাষায়, শুধু বিপিএলে অংশ নেওয়া ৬০ জনের জন্য সাময়িক ব্যবস্থা না করে দেশের সব ঘরোয়া ক্রিকেটারকে দীর্ঘমেয়াদে সুবিধা দেওয়াই বোর্ডের লক্ষ্য।
নতুন কাঠামোতে পুরুষদের প্রথম শ্রেণির ম্যাচ ফি হবে দেড় লাখ টাকা। এক দিনের ম্যাচে এক লাখ এবং এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে ৮০ হাজার টাকা করে পাবেন ক্রিকেটাররা।