‘আওয়ামী লীগের কেউ ব্যবসা করতে পারবে না’—গাজীপুরে এক ব্যবসায়ীকে ফোনে এমন হুমকি দেওয়ার অডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ফোনদাতা নিজেকে কৃষক দলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। ব্যবসায়ীর অভিযোগ, চাঁদা না দেওয়ায় পরে তাঁর প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা ইন্টারনেটের তার (কেব্‌ল) কেটে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার বাসন থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন। অভিযোগে কৃষক দলের কর্মী তরিকুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার–পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তরিকুল ইসলাম গাজীপুর মহানগরের ইটাহাটা এলাকার মো. জহুর উদ্দিনের ছেলে। তিনি কৃষক দলের কর্মী। বাসন থানা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী।

বাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শিবলু মিয়া বলেন, ব্যবসায়ীকে হুমকি দেওয়া এবং তাঁর প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা ইন্টারনেট কেব্‌ল কাটার বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন ‘অ্যাডভান্স নেটওয়ার্ক সিস্টেম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। বাসন থানা এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির ইন্টারনেট ব্যবসার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) লাইসেন্স রয়েছে। প্রায় দুই মাস ধরে তরিকুল ইসলামসহ কয়েকজন সাজ্জাদ হোসেনের ইন্টারনেট ব্যবসায় বিভিন্নভাবে বাধা দিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলে সাজ্জাদ হোসেনের কর্মচারীদের হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩১ আগস্ট রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে তরিকুল ইসলাম মুঠোফোনে কল করে আবারও সাজ্জাদ হোসেনের কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে বিদ্যুতের খুঁটিতে টানা তাঁর প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনেট সংযোগের সব তার কেটে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

ফোনালাপের এক প্রান্ত থেকে তরিকুলকে বলতে শোনা যায়, ‘তারেক রহমানের খাম্বায় (বৈদ্যুতিক খুঁটি) আওয়ামী লীগের কেউ ব্যবসা করতে পারবে না। তার ব্যবসার লাইসেন্স থাকুক আর না থাকুক। আমরা আওয়ামী লীগ আমলে ব্যবসা করতে পারি নাই, এখন আপনারাও করতে পারবেন না।’

হুমকির পরদিন ১ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এক গ্রাহক ফোন করে তেঁতুলতলা এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা জানান। পরে কর্মচারীদের সেখানে পাঠান সাজ্জাদ। কর্মচারীরা বাসন থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অ্যাডভান্স নেটওয়ার্ক সিস্টেমের অপটিক্যাল কেব্‌ল কাটা অবস্থায় দেখতে পান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম দাবি করেন, তাঁর নামে মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন মানুষের কাছে বিচার দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে তিনি মুঠোফোনে ওই কথাগুলো (হুমকি) বলেছেন। তরিকুল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘তাঁরা (ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন) আওয়ামী লীগ করেন। আওয়ামী লীগ আমলে কি আমরা ব্যবসা করতে পেরেছি? পারিনি। কিন্তু তারা ঠিকই ব্যবসা করছে। আমরা কৃষক দল করি, আমার বাবাও কৃষক দল করেন। আওয়ামী লীগ আমলে আমরা জেল খেটেছি, রিমান্ডে ছিলাম। সেই হিসাবে তো আমরা কিছুই করছি না।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাজ্জাদ হোসেন কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। তবে তাঁর পরিবারের কেউ কেউ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক।

কৃষক দল কর্মী তরিকুলের হুমকির পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান সাজ্জাদ হোসেন। মুক্তকণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আমি বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছি। এরপরও চাঁদা দাবি করে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। চাঁদা না দেওয়ার পর আমার প্রতিষ্ঠানের কেব্‌ল কেটে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন আমি ও আমার কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’