বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪০ ঘণ্টা পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতাল প্রশাসনের উদ্যোগে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কাজে যোগ দেন।
এ সম্পর্কে হাসপাতালের উপপরিচালক মনজুর-ই-মুশেদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, 'ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কিছু দাবি তাৎক্ষণিকভাবে মেনে নেওয়া হয়েছে। কিছু দাবি পর্যায়ক্রমে মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এতে সন্তুষ্ট হয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দিয়েছেন।'
এর আগে দুপুর ১২টার পর থেকে হাসপাতাল মিলনায়তনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়। এতে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম নুরুল ইরফান, উপপরিচালক মনজুর-ই-মুশেদ, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াদুদুল হক তরফদার, বিএমএর সভাপতি আফসার হাবিব, বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আহসানুল তৈয়ব জাকির, মহানগর বিএনপির সভাপতি হামিদুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের ৭ম তলার মেডিসিন ওয়ার্ডে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে স্বজনদের সংঘর্ষ হয়। এতে ছয় ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন চিকিৎসকেরা। এ ঘটনার পর অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার ছাত্রদলের নেতা–কর্মীসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা করে হাসপাতাল প্রশাসন। পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির মধ্যে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চালু ছিল। জ্যেষ্ঠ ও মধ্য পর্যায়ের চিকিৎসকদের দিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে আজ সকাল থেকে বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সকাল পৌনে ১০টার দিকে টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে দেন আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা। এতে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা ভোগান্তিতে পড়েন। অনেকে চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যান।