সরকারি তহবিলে ১৪৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব ক্ষতির মামলায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উপকর কমিশনার লিংকন রায়কে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আরেক কর্মকর্তা সহকারী কর কমিশনার জান্নাতুল ফেরদৌস মিতুর আগামী আট বছরের জন্য পদোন্নতি স্থগিত করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এই শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিটে কর্মরত অবস্থায় সাময়িক বরখাস্তে থাকা অবস্থাতেই লিংকন রায় ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ করবর্ষের একটি নিষ্পত্তিপ্রাপ্ত আয়কর মামলায় নতুন করে আদেশপত্র ও কর নির্ধারণ আদেশ তৈরি করেন। এর ফলে সরকার ১৪৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৬ হাজার ৫৫৩ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। এর আগে তিনি কর অঞ্চল-৫, ঢাকার সার্কেল-৯০ (কোম্পানিজ)-এ দায়িত্ব পালন করতেন।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা পরিচালনা করা হয়। ব্যক্তিগত শুনানি ও তদন্তের পর অভিযোগটি প্রমাণিত হলেও দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত ও রাষ্ট্রপতির সম্মতি নিয়ে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
অন্যদিকে, কর অঞ্চল-৫-এর সার্কেল-৯৩-এ দায়িত্ব পালনকালে করদাতা সালাহ উদ্দিন আহমেদের কাছ থেকে নগদ ৩৮ লাখ টাকা গ্রহণের অভিযোগে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী কর কমিশনার জান্নাতুল ফেরদৌস মিতুর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা গড়ে তোলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এই অর্থের বিনিময়ে ওই করদাতার আয়কর নথির অধিকাংশ রেকর্ড পরিবর্তন এবং পুরোনো রেকর্ড তার মনোনীত প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
তদন্তে মিতুর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হলেও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় তাকে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। এর আওতায় আগামী আট বছর পর্যন্ত তাঁর পদোন্নতি স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে জারিকৃত সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।