তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) তিন দিনের সফরে ভোলায় এসে নতুন বাজার চত্বরে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় ভোলার মানুষকে বিভ্রান্তি ও বিভক্তি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ভোলার উন্নয়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং সংসদীয় এলাকায় দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।

মন্ত্রী বলেন, "বিগত ১৮ বছরে আমি কী রাজনীতি করেছি, সেটা আপনারা সবাই দেখেছেন। আমি চাইলে অনেক সুযোগ-সুবিধা নিতে পারতাম। কিন্তু কোনো লোভ-লালসায় পা দিইনি।"

তিনি আরও বলেন, "আওয়ামী লীগ ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতির কোমড় ভেঙে দিয়েছে। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নিয়েছেন। এই পরিস্থিতি থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড়াতে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা সততার সঙ্গে পালন করব।"

ভোলা-বরিশাল সেতু প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "ভোলা-বরিশাল সেতু ভোলার প্রত্যেকটি মানুষই চায়। এই সেতুর জন্য আমরা সবাই আন্দোলন করেছি। সংসদেও আমরা প্রত্যেকে সেতুর দাবি তুলেছি। সরকার বিষয়টি দেখছে। কিছু মানুষ বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা বলতে চাচ্ছে, আমরা সেতু চাই না। বাস্তবতা এমন নয়। আমি বলব, ভোলার মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না, বিভক্তি আনবেন না।"

বিকল্প সড়ক প্রকল্প নিয়ে তিনি জানান, "ভোলার মানুষের জন্য কোন প্রকল্পটি বেশি উপযোগী হবে, সরকার সেটিও বিবেচনা করছে। হিজলা-মুলাদী হয়ে শরীয়তপুর দিয়ে সরাসরি ঢাকায় যাওয়ার বিকল্প সড়কপথে সময় কম লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্তকে ভোলার জন্য ভালো মনে করবেন, সেটিই নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।"

অর্থনৈতিক বরাদ্দ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, "আমরা আমাদের দাবির কথা বলেই যাব। তবে সরকার কোনো কিছু বিবেচনা করে দেখলে সেটিও দেখতে হবে। ওই বিকল্প সড়ক করতেও প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা লাগবে। এক ভোলার জন্যই প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করতে হচ্ছে। এই ছয় মাসে ৩০০ আসনের মধ্যে এমন একটি আসন দেখান, যেখানে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ আনা সম্ভব হয়েছে।"

তিনি ভোলাবাসীর কাছে আবেদন করে বলেন, "বিগত নির্বাচনে অনেকে আমাকে ভোট দিয়েছেন, অনেকে দেননি। সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে ভোলার উন্নয়নে আপনারা সবাই আমাকে সহযোগিতা করুন, যাতে আমি কাজ করতে পারি। সবাইকে নিয়ে ভোলার উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে।"

সংসদীয় এলাকার ছয় মাসের দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, "কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে আমি প্রশ্রয় দিইনি, দেবও না। আমার দল বা আমার নাম ব্যবহার করে কেউ অন্যায়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি বা অনিয়ম করলে তারা আমার দলের নয়।" তিনি আরও বলেন, "আমি টেন্ডারবাজি করি না, করার প্রশ্নই আসে না। টিআর-কাবিখা নিয়ে কেউ অনিয়ম করলে ইউএনও কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেবেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’"

এর আগে, ঢাকা থেকে সড়কপথে বরিশাল হয়ে লাহারহাটে পৌঁছান আন্দালিব রহমান পার্থ। সেখান থেকে স্পিডবোটে ভোলা খেয়াঘাটে পৌঁছালে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপি ও বিজেপির নেতারা তাকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। খেয়াঘাট থেকে ভোলা শহরে আসার পথে বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। পরে উকিলপাড়ায় তার নিজ বাসায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়.