সাবেক বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমান এবং বংশাল থানা বিএনপির ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকারের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) বেলা ২টা ৩৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সাবেক বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমানের বিষয়ে রাশেদ খান উল্লেখ করেন যে, ২০০৪ সালে অর্থের বিনিময়ে জামিনের আশ্বাসের অভিযোগে তাকে অপসারণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপতির সেই অপসারণ আদেশ বহাল রাখেন। এই প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, "জামায়াতে যোগদান করা অতিরিক্ত বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমানকে ২০০৪ সালে অর্থের বিনিময়ে জামিনের আশ্বাসের অভিযোগে অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে অপসারণের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যান শাহিদুর রহমান। কিন্তু ২০১৫ সালেও তার অপসারণ করে দেওয়া রাষ্ট্রপতির আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এবার তিনি জামায়াতে যোগদান করে অতীতের সমস্ত বিতর্ক থেকে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। জামায়াতকে ধন্যবাদ যে, জামায়াত অপরাধী ও বিতর্কিতদের পুনর্বাসন করে সঠিক পথে আনার উদ্যোগ নিয়েছে।"
অন্যদিকে, বিএনপি থেকে সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া ইসহাক সরকারের ছোট ভাই ইয়াকুব সরকারের জামায়াতে যোগদানের বিষয়ে ব্যঙ্গ করে তিনি লেখেন, "আবার শুনলাম, এনসিপি নেতা ইসহাক সরকারের এক ভাই ৩৬ বছর ধরে মানুষ হতে না পারলেও জামায়াতে যোগদান করার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ হয়ে গেছে মর্মে বক্তব্য দিয়েছেন। জামায়াতের এ আলাদিনের চেরাগ দেখার খুব ইচ্ছে। সেখানে কি জাদু আছে যে, মুহূর্তের মধ্যে একজন অপরাধীও পাপ মুক্ত মানুষ হয়ে যায়। ভোটের আগে জান্নাতের টিকিটের মতোন জামায়াত বর্তমানে ‘অপরাধী পাপ মুক্তকরণ টিকিট’ চালু করেছে বলে মনে হচ্ছে। তবে এটা অবশ্য ইতিবাচক যে, সব অপরাধী যদি জামায়াতে গিয়ে ভাল মানুষ হয়ে যায়। তাও দেশটা অপরাধী মুক্ত হবে।"
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাবেক বিচারপতি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং কওমি আলেমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মোট ৬৫০ জন জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। তাদের মধ্যেই ছিলেন সাবেক বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমান ও ইয়াকুব সরকার।