জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, সরকার যদি আন্তরিক হয় তবে ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব। তিনি সরকারের কাছে অভিযোগ নিষ্পত্তি ও স্বচ্ছতার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বারিধারায় জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তর কার্যালয়ে ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির সাম্প্রতিক তথ্য এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সেলিম উদ্দিন জানান, গত ২৫ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তরের ৫৪টি ওয়ার্ডে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। সাত দিনে ২৯০টি খাল ও ড্রেন পরিষ্কার করা হয় এবং ২০৪ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। এতে ২৫ হাজার ৮২৮ জন দলীয় স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান যে, ঢাকা শহরের খাল ও খেলার মাঠ কবে দখলমুক্ত করা হবে তা সিটি করপোরেশনকে জানাতে হবে। খালের বর্তমান অবস্থা এবং দখলদারদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। আগামী বর্ষার আগেই সকল ড্রেন শতভাগ পরিষ্কার করে সেই তথ্য প্রকাশ করতে হবে। ফুটপাত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি হকারদের জন্য ১০টি হলিডে মার্কেট স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। মশা নিধনের জন্য মৌসুমি নয়, বরং ১২ মাসব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে এবং প্রতি মাসের কাজের হিসাব উন্মুক্ত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণকে অভিযোগ দায়েরের পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। প্রতি মাসে কতগুলো অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে তা প্রকাশ করতে হবে। সরকার এই পদক্ষেপগুলো নিলে বিরোধী দল সহযোগিতা করতে রাজি আছে।

ডিএনসিসি নির্বাচন দখলদারি ও কারচুপিমুক্ত রাখতে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। প্রশ্নের জবাবে সেলিম উদ্দিন বলেন, তার উদ্যোগ প্রমাণ করেছে যে সরকার ঢাকা পরিষ্কার ও দখলমুক্ত রাখতে ব্যর্থ। এর পেছনে রয়েছে দুর্নীতিবাজ নেতৃত্ব।

তিনি আরও জানান, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব সাক্ষরতা দিবসে বর্জ্য থেকে তৈরি কলম শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, ইয়াসিন আরাফাত ও প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার উপস্থিত ছিলেন।