জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১৫ বছরের শাসনামলে দেশে গুম ও ভীতির সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের লোকদের নিপীড়ন, নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এ দেশের মানুষের বাক্‌স্বাধীনতাকে হরণ করা হয়।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে আন্তর্জাতিক পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)-এর মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের সাথে সাক্ষাৎকালে এই মন্তব্য করেন স্পিকার। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলামও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সভাপতির আসনে বসে স্পিকার আরও বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের টানা ১৫ বছরের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠ রোধ করতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, আয়নাঘরের মতো গোপন বন্দিশালা এবং ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের মতো কালো আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে এক ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় গুম ও নিপীড়নের আবহ তৈরি করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংসদ সদস্য তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি তাঁর ভাই সাজেদুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে গুম হয়ে থাকার বর্ণনা দেন। অন্যদিকে, সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান) এবং হুমাম কাদের চৌধুরী আয়নাঘরে তাঁদের বন্দিজীবন ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল তাঁর স্বামী ইলিয়াস আলীকে গুম করার ঘটনা তুলে ধরে বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের কাছে ‘গুম’ শব্দটি প্রথম পরিচিতি পায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে ইলিয়াস আলীকে গুম করেছিল। এ সময় তিনি বিচারবহির্ভূত এসব গুম ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ বলেন, বাংলাদেশে এসব সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, গুম ও বিরোধী মতাদর্শের অনুসারীদের প্রতি নিপীড়ন অমানবিক ও জঘন্য। তিনি বলেন, তাঁর নিজ দেশ রোমানিয়ায় চসেস্কুর নির্মম দমন নীতির সঙ্গে বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার প্রধানের শাসনামলের মধ্যে মিল লক্ষণীয়।

সফর শেষে আইপিইউর গভর্নিং বডির কাছে বাংলাদেশে সংঘটিত স্বৈরাচারী শাসনামলের গুম, হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নের একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রদান করবেন বলে আইপিইউ মহাসচিবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।