যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কর্মরত এইচ-১বি ভিসাধারী শ্রমিকদের স্বামী বা স্ত্রীকে দেওয়া কাজের অনুমতি বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ওই দেশের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রক কার্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত এই প্রস্তাব কার্যকর হলে হাজারো এইচ-৪ ভিসাধারী তাঁদের চাকরি হারাতে পারেন। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় এবং আনুষ্ঠানিক প্রকাশের কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

এইচ-৪ ভিসা মূলত অ-অভিবাসী বা নন–ইমিগ্র্যান্ট ভিসা হিসেবে পরিচিত, যা এইচ-১বি, এইচ-১বি১, এইচ-২এ, এইচ-২বি বা এইচ-৩ ভিসাধারীদের ওপর নির্ভরশীল নিকট স্বজনদের জন্য প্রযোজ্য। ডিএইচএসের প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু এইচ-৪ নির্ভরশীল স্বামী বা স্ত্রীকে কর্মসংস্থানের যোগ্যতা তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ২০১৫ সালের চূড়ান্ত বিধি বাতিল করে আগের নীতিমালা পুনর্বহাল করা হবে। এইচ-৪ ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর্মসংস্থানভিত্তিক নয়; এটি মূলত সঙ্গীর সাথে বসবাসের সুযোগ দেয়। তবে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে, বিশেষ করে গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট পর্যায়ে থাকলে, স্বামী বা স্ত্রী আলাদাভাবে ইএডি পেয়ে বৈধভাবে কাজ করতে পারেন।

প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অনুমতি বাতিল হচ্ছে না। নিয়ম পরিবর্তনের ধাপে ডিএইচএসকে ফেডারেল রেজিস্টারে আনুষ্ঠানিক নোটিশ অব প্রপোজড রোলমেকিং প্রকাশ করতে হবে। এরপর জনমত সংগ্রহের পর চূড়ান্ত বিধি জারি হলে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। ততদিন পর্যন্ত বৈধ এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট (ইএডি) থাকা ভিসাধারীরা বর্তমান নিয়ম মেনে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।

ট্রাম্প প্রশাসন এবারই প্রথম এইচ-৪ ইএডি বাতিলের উদ্যোগ নেয়নি। প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালে একই ধরনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা চূড়ান্ত রূপ পায়নি এবং ২০২১ সালে প্রত্যাহার করা হয়। এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তনের উদ্যোগের সমান্তরালে নতুন প্রস্তাবটি সামনে এসেছে। বাস্তবায়িত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ভারতীয় পেশাজীবীদের পরিবার। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ইএডি আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত আবেদনের ৯৩ শতাংশ পেয়েছিলেন ভারতীয় নাগরিকেরা। আর এসব অনুমতিপত্রধারীর ৯৪ শতাংশ ছিলেন নারী।