গত সোমবার সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো ২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে। এতে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। মূল বেতন ও ভাতাসহ মোট চার ধাপে এই কাঠামোটি বাস্তবায়িত হবে, যা গত জুলাই থেকে কার্যকর হবে। বাস্তবায়নের শুরুতেই এতদিন চালু থাকা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ ‘বিশেষ সুবিধা’ বাতিল হয়ে যাবে।

প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে জুলাই থেকে নতুন বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ প্রথম ধাপে কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩০ শতাংশ এবং ওই বছরের জুলাইয়ে তৃতীয় ধাপে বাকি ৩০ শতাংশ যুক্ত হবে। চতুর্থ ধাপে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বাড়িভাড়াসহ নতুন ভাতাগুলো চালু হবে, তবে আগের ভাতাগুলো অব্যাহত থাকবে।

উদাহরণস্বরূপ, চলতি বছরের জুলাইয়ে নবম গ্রেডে যোগদানকারী একজন নতুন চাকরিজীবীর ক্ষেত্রে পুরোনো কাঠামোয় মূল বেতন ছিল ২২ হাজার টাকা। নতুন নিয়মে প্রথম ধাপে তা ৪০ শতাংশ বেড়ে ৩০ হাজার ৮০০ টাকা দাঁড়াবে। দ্বিতীয় ধাপে ৬ হাজার ৬০০ টাকা যুক্ত হয়ে তা ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা হবে। ২০২৭ সালের জুলাইয়ে আরও ৬ হাজার ৬০০ টাকা যোগ হলে মূল বেতন ৪৪ হাজার টাকা হবে। এই সময়ে তিনি আগের বেতনকাঠামো অনুযায়ী ভাতা পাবেন।

২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন হারে ভাতা কার্যকর হবে। ঢাকায় কর্মরত নবম গ্রেডের একজন নতুন কর্মকর্তার ৪৪ হাজার টাকা মূল বেতনের পাশাপাশি ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া হিসেবে ২২ হাজার টাকা যুক্ত হবে। চিকিৎসা, শিক্ষাসহায়ক, উৎসব ও অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে তাঁর মোট বেতন-ভাতা কমবেশি ৭০ হাজার টাকা হতে পারে। ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে এই গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ার সুযোগ রয়েছে।

সরকারি চাকরিতে সদ্য ঘোষিত বেতনকাঠামোতে নতুন ও পুরোনোদের বেতন কত হবে, সে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে এ–সংক্রান্ত সরকারি আদেশ জারির পর। বেতনকাঠামোর বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি গতকাল মঙ্গলবার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "নতুন বেতনকাঠামো–সংক্রান্ত আদেশ অর্থ বিভাগ আজ বা আগামীকাল জারি করবে। তখন সব বিষয় স্পষ্টভাবে জানা যাবে।"