গত সোমবার সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো ২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে। এতে গ্রেডভেদে মূল বেতন বেড়েছে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ। মূল বেতন, ভাতাসহ মোট চার ধাপে এই বেতনকাঠামো বাস্তবায়িত হবে।
কার্যকর হবে গত জুলাই থেকে। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে এত দিন চালু থাকা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ ‘বিশেষ সুবিধা’ অবলুপ্ত বা বাতিল হয়ে যাবে।
বর্তমানে সরকারি চাকরির গ্রেড ২০টি। এর মধ্যে বিসিএস ক্যাডারসহ প্রথম শ্রেণির চাকরি হিসেবে পরিচিত অধিকাংশ নিয়োগ হয় নবম গ্রেডে। অন্যান্য নিয়োগ শুরু হয় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে। যেমন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে নিয়োগ হয়। আর প্রধান শিক্ষকের পদটি দশম গ্রেডের। সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি দশম গ্রেড করা হয়েছে। চাকরির শুরুতে এই গ্রেডের পুরোনো মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোয় তা শুরুতে হবে ৩২ হাজার টাকা। ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে এই গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন হবে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা।
প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ বাড়লে ১৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে মূল বেতন হবে ২৪ হাজার টাকা। দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৫ শতাংশ, অর্থাৎ ৪ হাজার টাকা যোগ হয়ে মূল বেতন হবে ২৮ হাজার টাকা। তৃতীয় ধাপে আরও ৪ হাজার টাকা যোগ হলে মূল বেতন দাঁড়াবে ৩২ হাজার টাকা।
এর সঙ্গে ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে বর্ধিত বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা যুক্ত হবে। তখন এই গ্রেডের একজন নতুন কর্মকর্তা বা প্রধান শিক্ষকের শুরুতে মোট বেতন-ভাতা ৫০ হাজার টাকার বেশি হবে।
তবে নতুন চাকরিজীবীদের তুলনায় পুরোনোদের ক্ষেত্রে হিসাবটা ভিন্ন। কারণ, তাঁদের বর্তমান মূল বেতন, চাকরির মেয়াদ, ইনক্রিমেন্ট ও অন্যান্য সুবিধার ওপর মোট বেতন নির্ভর করবে।
নতুন বেতনকাঠামো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হলে ২০২৮ সাল থেকে নতুন একজন সহকারী শিক্ষকের মোট বেতন-ভাতা ৪০ হাজার টাকার কাছাকাছি হবে।
এক যুগের বেশি সময় ধরে চাকরি করা ঢাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, বর্তমানে তাঁর মূল বেতন ২২ হাজার ৪৫০ টাকা। বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে মোট বেতন পান প্রায় ৩৬ হাজার টাকা। নতুন বেতনকাঠামো সম্পর্কে যতটুকু জেনেছেন, তার ভিত্তিতে আনুমানিক হিসাব করে তিনি দেখেছেন, প্রথম ধাপে জুলাই থেকে সবকিছু মিলিয়ে তাঁর মোট বেতন ৪০ হাজার টাকা হতে পারে। আর সব ধাপ ও ভাতা যোগ হয়ে পূর্ণাঙ্গ বেতনকাঠামো বাস্তবায়িত হলে তাঁর মোট বেতন হতে পারে ৭০ হাজার টাকার কাছাকাছি। তবে তিনি মনে করেন, অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করলে তখন হিসাবটি স্পষ্ট হবে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে ৮০ শতাংশ নিয়োগ হয় সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের পদটি ১৩তম গ্রেডের। এ গ্রেডে মূল বেতন ১১ হাজার টাকা থেকে শুরু হতো। নতুন কাঠামোয় তা শুরু হবে ২৪ হাজার টাকা দিয়ে। সময়ের সঙ্গে ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়ে এই মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫৮ হাজার টাকা পর্যন্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
নতুন বেতনকাঠামো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হলে ২০২৮ সাল থেকে নতুন একজন সহকারী শিক্ষকের মোট বেতন-ভাতা ৪০ হাজার টাকার কাছাকাছি হবে।
তবে পুরোনোদের ক্ষেত্রে তা বেশি হবে। যেমন ১৭ বছর চাকরি করা নোয়াখালীর একজন সহকারী শিক্ষক জানিয়েছেন, পুরোনো কাঠামো অনুযায়ী প্রতিবছর ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়ে তাঁর মূল বেতন এখন ২০ হাজার ৮০০ টাকা। তিনি মাসে ভাতাসহ প্রায় ৩৩ হাজার টাকা পান। নতুন বেতনকাঠামোয় প্রথম ধাপে তাঁর মূল বেতন দাঁড়াবে ২৭ হাজার ৩০০ টাকার কাছাকাছি। এর সঙ্গে আগের কাঠামোয় বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা পাবেন। এতে তাঁর মোট বেতন–ভাতা হতে পারে ৪০ হাজার টাকার কাছাকাছি। আর সব ধাপ বাস্তবায়িত হলে তাঁর মোট বেতন–ভাতা দাঁড়াবে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।