বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসর ঘিরে বিসিবির আনা দুর্নীতিবিরোধী বিধি ভঙ্গের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন বোর্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও এনসিপি নেতা রাকিবুল ইসলাম সানি। তদন্তে সহযোগিতা করার দাবি জানিয়ে পুরো ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা পরিকল্পিতভাবে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
তিন পৃষ্ঠার এক লিখিত বিবৃতিতে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক কাউন্সিলর ও বিসিবির নিরীক্ষা কমিটির সাবেক সদস্যসচিব রাকিবুল। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। আমার গোপন করার কিছু নেই এবং দুর্নীতি বা ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
বিপিএলের সর্বশেষ আসর ঘিরে তদন্তের পর মঙ্গলবার সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান শামীম, সাবেক নিরাপত্তা সংযোগ কর্মকর্তা জাকির হোসেন এবং রাকিবুলের বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধির বিভিন্ন ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনে বিসিবি। তিনজনকেই সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অভিযোগের নোটিশ পাওয়ার পর জবাব দেওয়ার জন্য তাদের ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
তবে রাকিবুলের বিরুদ্ধে সরাসরি ম্যাচ ফিক্সিং বা অন্য কাউকে দুর্নীতিতে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়নি। তার বিরুদ্ধে বিধির ২.৪.৪ ও ২.৪.৬ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে।
২.৪.৪ ধারায় দুর্নীতিতে জড়ানোর কোনো প্রস্তাব বা আমন্ত্রণ পেলে তা দ্রুত নির্ধারিত দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তাকে না জানানোর অভিযোগ করা হয়েছে। আর ২.৪.৬ ধারার অভিযোগটি যথাযথ কারণ ছাড়া তদন্তে সহযোগিতা না করা বা তদন্ত কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুসরণে ব্যর্থ হওয়া নিয়ে।
দুটি অভিযোগই অস্বীকার করে রাকিবুল দাবি করেছেন, দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের ডাকে তিনি তদন্তে উপস্থিত হয়েছিলেন। তাকে করা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি নিজের জানা তথ্য যথাসম্ভব নির্ভুল ও সৎভাবে জানিয়েছিলেন। এরপরও তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগ তার কাছে বিস্ময়কর এবং ঘটনার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে মনে হয়েছে।
অভিযোগের সময়কাল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাকিবুল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিপিএলের দ্বাদশ আসর শেষ হয় ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি। একই দিনে তিনি বিসিবির নিরীক্ষা কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে বিপিএল চলাকালে দুর্নীতির প্রস্তাব পাওয়া এবং সেটি গোপন করার অভিযোগের সঙ্গে তার দায়িত্ব গ্রহণের সময়কাল কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটি নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সাবেক বিসিবি পরিচালক ও নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান শামীমের সঙ্গে পরিচয় এবং যোগাযোগের কথাও স্বীকার করেছেন রাকিবুল। তিনি জানিয়েছেন, রাজশাহী বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় শামীমের সঙ্গে তার সাংগঠনিক ও পেশাগত যোগাযোগ ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্রেই তাকে দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিতে বলা হয়েছিল।
বিসিবি থেকে সরাসরি ও পূর্ণাঙ্গভাবে জানার আগেই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা জানতে পারেন বলেও দাবি রাকিবুলের। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
রাকিবুল বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। তার দাবি, বিপিএলের ফিক্সিং ও দুর্নীতিসংক্রান্ত আলোচনায় নাম আসায় রাজনৈতিক সংগঠনের ভেতরেও তার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাকে সামাজিকভাবে বিব্রত হতে হয়েছে।
এ কারণেই পুরো ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা পরিকল্পিতভাবে তাকে হেয় করার চেষ্টা থাকতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাকিবুল। তবে প্রমাণ ছাড়া সরাসরি কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে অভিযুক্ত করতে চান না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রাকিবুল বলেছেন, আবেগ, রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা অনুমানের ভিত্তিতে নয়, নথি, সময়কাল, তথ্য ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের আলোকে অভিযোগগুলোর তদন্ত হওয়া উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন না করার জন্য সংবাদমাধ্যম ও ক্রিকেটসংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অভিযোগের নোটিশের জবাব দেবেন বলে জানিয়েছেন রাকিবুল। তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রচলিত বিধি ও আইন অনুযায়ী নিজের সব অধিকার সংরক্ষণের কথাও বলেছেন তিনি।
বিসিবি জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই পর্যায়ে বোর্ড আর কোনো মন্তব্য করবে না।