কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাট এলাকায় তিস্তা নদীর ক্রসবাঁধের প্রায় ৪০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে তীব্র স্রোতে এই ভাঙন শুরু হলেও তা রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও এলাকাবাসী গভীর উদ্বেগে রয়েছে।
ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন যে দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা না নিলে পুরো বাঁধটি ধ্বংস হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে রাজারহাটের বড়দরগা, বুড়িরহাট, রামহরি, চতুরা, কালিরমেলা ও ডাংরারহাট—এই ছয়টি গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ সরাসরি প্লাবন ও ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। সেই সঙ্গে শত শত বসতভিটা, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং কমপক্ষে পাঁচটি স্থানীয় বাজারও হুমকির মুখে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে বুড়িরহাট ক্রসবাঁধের মূল রাস্তার একটি অংশে হঠাৎ ফাটল ধরে ভাঙন শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই রাস্তার উত্তর ও দক্ষিণ দিকে সেই ভাঙন ছড়িয়ে পড়ে। নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় বাঁধের তলদেশের মাটি ও বালু দ্রুত সরে যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী একরামুল বলেন, "গতকাল থেকেই নদীতে প্রচণ্ড স্রোত ছিল। গত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকেই আমরা ভাঙনের আলামত বুঝতে পেরে আশঙ্কার কথা দায়িত্বপ্রাপ্তদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু সময়মতো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।"
অন্য এক বাসিন্দা ইদ্রিস আলী বলেন, "শুষ্ক মৌসুমে এখানে নদীচর ও বালু ছিল। তখন একটি জায়গা সামান্য দেবে গেলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এখন নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বালু সরে গেছে, ফলে পুরো বাঁধটিই ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।"
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, বুড়িরহাট ক্রসবাঁধে ভাঙনের খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিকভাবে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিং নিশ্চিত করা হচ্ছে। দ্রুতই ভাঙন সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।