অমন ভালো মানুষটি হতে হবে না তোমায়।দুহাঁটুতে ভর করে, অনুতাপ করতে করতেমরুভূমির মাঝ দিয়ে শ খানেক মাইল হেঁটে যেতে হবে না।শুধু শরীরের ভেতর নরম জন্তুটা যা ভালোবাসে,তাকে তা ভালোবাসতে দাও।আমায় তোমার হতাশার কথা বলো, তোমার,আমি তোমায় আমারটুকু বলব।এবং এর মাঝে পৃথিবী এগিয়ে যাবে।এর মাঝে সূর্য আর বৃষ্টিভেজা ঝকঝকে নুড়িপাথরভুদৃশ্যের মাঝ দিয়ে...চলেছে প্রেইরি, ঘন গাছপালা,পাহাড় আর নদীর ওপর দিয়েএর মাঝে নির্মল, নীল বাতাসেবুনো হাঁস উঁচু থেকে উঁচুতে উড়ে যাচ্ছে, আবার ওরা ঘরে ফিরছে।তুমি যে–ই হও না কেন, যতই নিঃসঙ্গপৃথিবী নিজেকে তোমার কল্পনার কাছেই উৎসর্গ করে,সে তোমায় বুনো হাঁসের মতো ডাকে। কর্কশ, রোমাঞ্চকর—সবকিছুর মাঝে তোমার স্থানটুকু ঘোষণা করেসে শুধু বারবার ডাকে।

[‘ওয়াইল্ড গিজ’ কবিতার বাংলা ভাষান্তর। কবিতাটি ‘ড্রিম ওয়ার্ক’ (১৯৮৬) বই থেকে নেওয়া।]

কাল রাতে অন্ধকারেমাঠে শুয়ে ছিলামমৃত্যুর কথা ভাববার জন্য,কিন্তু তার বদলে ঘুমিয়ে পড়লাম,যেন এক বিশাল আর ঢালু ঘরের ভেতরঘরটা ভর্তি সেই সব সাদা ফুলেসারা গ্রীষ্মকাল ধরে যারা ফুটে থাকে,আঠালো, এলোমেলো,উষ্ণ মাঠের মাঝে।যখন আমি উঠলামতারাদের সামনেভোরের আলোমাত্র গলে গলেপড়তে শুরু করেছে,আর আমি ঢেকে ছিলাম ফুলে।কী জানি কীভাবে এমনটা হয়েছিল—জানি না আমার শরীরটামধু-মাখা–লতাগুলোরনিচে ডুব দিয়েছিল কি নাঘুমে তীক্ষ্ণ হয়ে যাওয়াকোনো এক আসক্তিতেগভীরতার মাঝে, কিংবাওই সবুজ প্রকৃতি বুঝিঢেউয়ের মতো উঠে এসেছিলআমাকে মুড়ে দিতে,আমাকে নিয়ে নিয়েছিলতার বলিষ্ঠ বাহুর ভেতরে।আমি তাদের ঠেলে সরিয়ে দিলাম,কিন্তু উঠে দাঁড়ালাম না।জীবনে কখনো এমন মখমলের পরশ পাইনিকিংবা এমন মসৃণতারঅথবা এমন চমৎকার শূন্যতারজীবনে কখনো ওই সরন্ধ্র রেখারএত কাছাকাছি যেতে পারিনিযেখানে আমার নিজ শরীর শেষ হয়েছিলআর শুরু হয়েছিল শিকড় কাণ্ড আর ফুল।

[‘হোয়াইট ফ্লাওয়ারস’ কবিতার বাংলা ভাষান্তর। কবিতাটি ‘নিউ পোয়েমস’ বই থেকে নেওয়া। ]

সে আমাকে ব্লু-জে পাখি, নীহারকণা,তারা আর এখন টিলার ওপরে উঠে যাওয়াযে কোজাগরী পূর্ণিমার চাঁদ, তার খবর পাঠায়।কথাচ্ছলে বলে ঠান্ডার কথা, বেদনার কথা,যা কিছু এত দিনে হারিয়ে গেছে তার ফর্দ বানায় সে।এখানে আমার জীবন কঠিন, ধীরে ধীরে চলে তা,আমি পড়ে চলি দরজার পাশেস্তূপীকৃত আরক্ত তরমুজের কথা,ঝুড়িভর্তি ফেনল, রোজমেরি, ডিল,আর এদিকে যা কিছু সে তুলতে পারেনিকিংবা যা পাতার ফাঁকে লুকিয়ে ছিল, তা কালো হয়ে ঝরে যায়।এখানে আমার কঠিন আর অদ্ভুত জীবনেআমি ওর পাগল করা আনন্দর কথা পড়িযখন তারা ফোটে, নীহারকণা ঝরে পড়ে, ব্লু-জে গান গায়।বিক্ষিপ্ত সময় তার প্রাজ্ঞ আর ঘূর্ণি খাওয়া হৃদয়েকোনো ছাপই ফেলবে না;—সে জানে কীভাবে মানুষ তাদের জীবন কাটানোর নানা পরিকল্পনা করেআর তারপর তেমন জীবন সে কোনো দিন কাটায় না।সে কাঁদে কি না, তা কখনো আমায় বলবে না।আমি ওর নামের পাশের ক্রসগুলো ছুঁয়ে যাই।উঠতে গিয়ে পৃষ্ঠাগুলো ভাঁজ করে রাখি।খামটা একপাশে কাত করতেই বাতাসে ভেসে বেড়ায় টুকরো টুকরোবর‍্যাজ, উডবাইন আর রু।

[‘আ লেটার ফ্রম হোম’ কবিতার বাংলা ভাষান্তর। কবিতাটি ‘নো ভয়েজ অ্যান্ড আদার পোয়েমস’ (১৯৬৩ এবং ১৯৬৫) বই থেকে নেওয়া।]