সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম বেতনকাঠামো (পে-স্কেল) অনুমোদন করেছে সরকার। সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোতে কর্মরত ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর মূল বেতন শতভাগ বা তার বেশি বাড়বে। অন্যদিকে, ৯ লাখ পেনশনভোগীর পেনশনও বাড়ানো হবে।

নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী, প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। আর ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে বাড়বে ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ। এর ফলে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ২০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

বেতন বৃদ্ধির এই আর্থিক সুবিধা চার ধাপে পর্যায়ক্রমে কার্যকর হবে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে বছরে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় হবে।

পেনশনভোগীদের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে, মাসিক নিট পেনশন ৯ হাজার টাকা বা তার কম হলে পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়বে। অর্থাৎ ৯ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তি নতুন হিসাবে পাবেন ১৮ হাজার টাকা। ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন থাকলে বাড়বে ৭৫ শতাংশ। ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনে বাড়বে ৬৫ শতাংশ। ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনে বাড়বে ৬০ শতাংশ। আর ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি পেনশন পেলে বাড়বে ৫৫ শতাংশ।

সরকারের লক্ষ্য হলো, কম পেনশনভোগীদের জীবনযাত্রার ব্যয় চাপ কমানো এবং ভবিষ্যতে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ ব্যবস্থা চালু করা। তবে এই ব্যবস্থা এখনই পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব নয়, কারণ ২০১৯ সালের আগে অবসর নেওয়া বেসামরিক কর্মচারীদের সম্পূর্ণ তথ্য-উপাত্ত সরকারের কাছে নেই। তাই ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।