বাংলাদেশে ছায়া সরকার গঠনের ধারণা প্রথমে এবি পার্টি নিয়েছিল বলে দাবি করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। সোমবার (৩১ আগস্ট) একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে তিনি জানান, দলটি গঠনের পরপরই এই ধারণাটি ঘোষণা করা হয়েছিল এবং দলের গঠনতন্ত্রেও এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ফুয়াদ বলেন, "দল গঠনের সময়ই তারা ছায়া সরকার ঘোষণা করেছিলেন। এমনকি বাংলাদেশে তারাই একমাত্র রাজনৈতিক দল, যাদের ছায়া সরকার বিষয়ক সম্পাদক রয়েছেন।" তিনি ব্যারিস্টার নোমানের নাম উল্লেখ করে জানান, তিনি বর্তমানে এই দায়িত্বে আছেন।
দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ছায়া সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে। এ কাজে সহায়তার জন্য একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট স্থাপনের বিষয়টিও দলীয় নীতিমালায় উল্লেখ থাকে। ফুয়াদ আরও বলেন, "গত কয়েক বছর ধরে ছায়া সরকারের ধারণাকে সামনে রেখে ইস্যুভিত্তিক ব্রিফিং এবং বিভিন্ন বিষয়ে বিকল্প প্রস্তাব দেওয়ার কাজ করেছে এবি পার্টি।" অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর তুলনায় এ ক্ষেত্রে তাদের কার্যক্রম বেশি ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরার চেষ্টা করার কথা উল্লেখ করে ফুয়াদ জানান, গণমাধ্যমেও এ বিষয়ে তাদের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর ছায়া সরকার গঠন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ফুয়াদ। তিনি বলেন, "তাহলে ছায়া সরকার এককভাবে জামায়াত কেন গঠন করল, সেটি দলটিকে ব্যাখ্যা করতে হবে।" জামায়াতের সঙ্গে ১১ দলীয় জোট থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত শুধু নিজেদের ভোটে নির্বাচিত হয়নি; বিএনপিবিরোধী পুরো বলয়ের ভোট জোটবদ্ধ হয়ে তাদের পক্ষে গেছে।" সে কারণে জোটের শরিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সমঝোতা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ছায়া সরকারের কার্যক্রম কেমন হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ফুয়াদ বলেন, "ছায়া সরকারের ধারণা ও প্রস্তাব নিয়ে সংশ্লিষ্টরা কীভাবে কাজ করেন, তা দেখেই তাদের সক্ষমতা বিচার করা উচিত।" তিনি বর্তমান সংসদীয় বিরোধী দলের কার্যক্রম নিয়েও মত প্রকাশ করেন। ফুয়াদ বলেন, "এখন পর্যন্ত সংসদে বিরোধী দলের কার্যক্রম দেখে তার মনে হয়নি যে তারা পর্যাপ্ত মেধা, যোগ্যতা ও তথ্যভিত্তিক উপায়ে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারছে।" এর পেছনে অনভিজ্ঞতাও একটি কারণ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
ছায়া সরকার গঠনে থাকা ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ফুয়াদ বলেন, "ছায়া সরকারে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র তিন-চারজন আগে সংসদ সদস্য ছিলেন। বাকিরা নতুন। তাদের শিক্ষাগত ও সামাজিক পটভূমিও এমন নয় যে তারা মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রমকে কার্যকরভাবে চ্যালেঞ্জ করতে বা বিকল্প তথ্য তুলে ধরতে পারবেন।"
তবে শুধু দলের আকার বিবেচনা করে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চান না জানিয়ে ফুয়াদ বলেন, "ছায়া সরকার কীভাবে কাজ করে, সেটিই তিনি দেখতে চান।"