এক হাজার কোটি টাকার বেশি অঙ্কের ঋণখেলাপিদের জন্য বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট গ্রাহকরা দুই বছর পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধে বিরতি নিয়ে ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিল বা নবায়নের সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, এক হাজার কোটি টাকার কম ঋণের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়।

সোমবার (৩১ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে তা পাঠিয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সুবিধা নিতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে। আর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো ডিসেম্বরের মধ্যেই ওই আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি সম্পন্ন করবে। এর আগে নীতি সহায়তার আওতায় সুবিধাভোগীরাও এবার নতুন করে আবেদন করতে পারবেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠন করতে পারে, সেজন্যই পূর্ববর্তী নীতি সহায়তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতেই এই নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে বড় ঋণগ্রহীতাদের জন্যই সবচেয়ে বেশি স্বস্তির বার্তা রয়েছে। কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের পক্ষ থেকে বিশেষ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে যে ঋণের স্থিতি ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি, ব্যাংকগুলো ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সে ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। শর্ত অনুযায়ী, সর্বোচ্চ দুই বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ১৫ বছর পর্যন্ত ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে। অর্থাৎ, বড় ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলো কিস্তি পরিশোধ শুরু করার আগে দুই বছর সময় পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে ঋণ ফেরতের সুযোগ পাবে।

এ সংক্রান্ত আগের সার্কুলার ও অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। নতুন এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।