জার্মানির গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফক্সভাগেন ব্যয় কমানোর বিশাল পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য অন্তত ১০ বিলিয়ন ইউরো খরচ সাশ্রয় করা। তবে এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক কর্মী চাকরি হারাতে পারেন। শ্রমিক ইউনিয়ন আইজি মেটালের অনুমান অনুযায়ী, সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকেও হিসাবের মধ্যে নিলে মোট ছাঁটাই হওয়া কর্মীর সংখ্যা ১ লাখ ৪০ হাজারে পৌঁছাতে পারে।
ফক্সভাগেনের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনায় সর্বোচ্চ এক লাখ চাকরি কমানোর কথা উল্লেখ থাকলেও ইউনিয়নের আশঙ্কা তা থেকে বেশি। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বব্যাপী মোট কর্মী সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৫৭ হাজার। এর মধ্যে জার্মানির এমডেন, হ্যানোভার এবং জভিকাউ কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ব্যবস্থাপনার দাবি, জার্মানির কারখানাগুলোতে উৎপাদন খরচ কিছু প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। ব্যয় নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে ইউরোপে বার্ষিক গাড়ি উৎপাদনের সক্ষমতা পাঁচ লাখের বেশি কমানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ ছাড়া ২০৩৫ সালের মধ্যে গাড়ির মডেলের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম ও বিকল্পের সংখ্যা ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অবিশ্বাস বাড়ছে। আগেও হাজার হাজার চাকরি বাদ দেওয়ার পরিকল্পনায় তারা সম্মতি দিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে নতুন করে ছাঁটাইয়ের খবর আসায় তাদের অসন্তোষ আরও তীব্র হয়েছে।
আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। ফক্সভাগেন ২০৩০ সালের মধ্যে মুনাফার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে চায়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফার মার্জিন মাত্র ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে পার্থক্য রয়েছে; ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে ৯ শতাংশ মুনাফার মার্জিনের কথা বলা হলেও জার্মান সংবাদমাধ্যমগুলোতে তা ৮ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্রমিক ইউনিয়ন আইজি মেটালের প্রধান ক্রিস্টিয়ানে বেনার এই লক্ষ্যমাত্রার সমালোচনা করেছেন। তিনি এটিকে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার বদলে ‘আকাশকুসুম’ লক্ষ্য হিসেবে অভিহিত করে ব্যবস্থাপনার কাছে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, ফক্সভাগেনের তদারকি বোর্ডে জার্মানির লোয়ার স্যাক্সনি রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। রাজ্যটির হাতে কৌশলগত সিদ্ধান্তে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে। ফলে কর্মী ছাঁটাই ও ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবস্থাপনার জন্য বিষয়টি সহজ হবে না। ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তদারকি বোর্ডকে রাজি করাতে ব্যবস্থাপনার হাতে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় রয়েছে। এর আগে জুলাই মাসেও বোর্ডে কর্মী প্রতিনিধি ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আপত্তি এসেছিল। ডয়চে ভ্যালে